ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে রায়পুর, নিজদেবপুর উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে যাত্রীকে পেটালেন শ্রমিকরা বিএনপি চেয়ারপারসন’র উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর চন্দ্রনাথ মন্দির পরিদর্শন একতা সংঘের উদ্যোগে রজত জয়ন্তী ও বাসন্তী পূজা উদযাপন কালীগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত চীনেডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গৌরবের ঐতিহ‍্যের ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্ত উৎসব বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ জন যশোরের পুলেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও দুই মেয়ে নিহত লোহাগাড়ায় দুর্ঘটনায় আহতদের পরিদর্শনে:উপদেষ্টা ফারুক ই আজম ও মেয়র শাহাদাত যশোরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে দুই শতাধিক অসুস্থের ঘটনায় বিক্রেতা আটক

সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিয়াজ মিয়া
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেওয়া পুঞ্জীভূত ঋণ সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট, বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকা, আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণমান কমিয়ে দেওয়াসহ নানা কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ দুটোই কমেছে। এতে বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি রিজার্ভ নিয়েও বিপাকে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন ধরনের ব্যয় মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎসগুলোতেই ঝুঁকতে দেখা গেছে। সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার এই পুঞ্জীভূত ঋণ বিভিন্ন সময়ে ধার করারই ধারাবাহিকতা মাত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এক বছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎসের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের একই সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎসের প্রকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ নেওয়া কমেছে ১৮ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার ট্যাক্স জিডিপি বাড়াতে না পারার কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ নেই। তাই সরকারকে ঋণ দিতে পারছে। তার মানে, সব সময় দিতে পারবে তা নয়।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ মার্কেট ঠিক হলে তখন বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদা বাড়বে। তখন ঋণ দেওয়ার চাপ থাকবে। ওই সময় ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে না পারলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আর সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকতে হবে। ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যাংকে শোধ করলে কোনো লাভ নেই।

তথ্য বলছে, বর্তমানে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের সবচেয়ে বেশি ব্যাংকবহির্ভূত খাতে। অর্থাৎ গত মার্চ শেষে সঞ্চয়পত্র, বিল ও বন্ড বিক্রি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা।

এদিকে সরকার চলতি অর্থবছর ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়েছে। মূলস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সরকার ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকে সরকারের ঋণ ছিল ৬১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের শেষ দুই মাসে ব্যাংক থেকে ঋণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ব্যাংক খাত থেকে নিট ৬১ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া গত জুলাই-মার্চ সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমলেও ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকার মোট ২৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ঋণ করেছে। এর মধ্যে সরকার সঞ্চয়পত্রের আসল বাবদ ১২ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমি এই প্লাটফর্মটি তৈরী করেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের কন্ঠস্বর হিসাবে পরিচালিত করার জন্য।আমরা অবিরত থাকবো সততা নিয়ে সত্যের সাথে। দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র পত্রিকা এ দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত গনমানুষের কথা বলবে এবং সত্য প্রকাশে থাকবে আপোষহীন।
ট্যাগস :

সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিয়াজ মিয়া
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেওয়া পুঞ্জীভূত ঋণ সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট, বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকা, আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণমান কমিয়ে দেওয়াসহ নানা কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ দুটোই কমেছে। এতে বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি রিজার্ভ নিয়েও বিপাকে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন ধরনের ব্যয় মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎসগুলোতেই ঝুঁকতে দেখা গেছে। সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার এই পুঞ্জীভূত ঋণ বিভিন্ন সময়ে ধার করারই ধারাবাহিকতা মাত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এক বছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎসের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের একই সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎসের প্রকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ নেওয়া কমেছে ১৮ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার ট্যাক্স জিডিপি বাড়াতে না পারার কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ নেই। তাই সরকারকে ঋণ দিতে পারছে। তার মানে, সব সময় দিতে পারবে তা নয়।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ মার্কেট ঠিক হলে তখন বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদা বাড়বে। তখন ঋণ দেওয়ার চাপ থাকবে। ওই সময় ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে না পারলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আর সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকতে হবে। ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যাংকে শোধ করলে কোনো লাভ নেই।

তথ্য বলছে, বর্তমানে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের সবচেয়ে বেশি ব্যাংকবহির্ভূত খাতে। অর্থাৎ গত মার্চ শেষে সঞ্চয়পত্র, বিল ও বন্ড বিক্রি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা।

এদিকে সরকার চলতি অর্থবছর ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়েছে। মূলস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সরকার ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকে সরকারের ঋণ ছিল ৬১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের শেষ দুই মাসে ব্যাংক থেকে ঋণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ব্যাংক খাত থেকে নিট ৬১ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া গত জুলাই-মার্চ সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমলেও ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকার মোট ২৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ঋণ করেছে। এর মধ্যে সরকার সঞ্চয়পত্রের আসল বাবদ ১২ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে।