সর্বজনীন পেনশন স্কিম- এ যুক্ত হলো এসকেএস-এর কর্মীরা

- আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ ৫০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:-
সর্বজনীন পেনশন স্কিম- এ যুক্ত হলো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। এসকেএস- এর কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং অংশীজনের মাঝে সচতনতা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম- এ আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংযুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৫ মে ২০২৪, এসকেএস ইন্, গাইবান্ধায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসকেএস-এর কর্মীদের পেনশন স্কীম- এ অন্তর্ভুক্তি উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান।
এসকেএস ফাউণ্ডেশনের নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি মুর্শেদ আলম সরকার, নির্বাহী পরিচালক- পপি এবং চেয়ারম্যান- ক্রেডিট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)- এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মোঃ ফসিউল্লাহ্, এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন কবিরুল ইজদানী খান, নির্বাহী চেয়ারম্যান, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. এ, বি, এম, আবু হানিফ, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), রংপুর এবং সুশান্ত কুমার মাহাতো, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধা।
প্রধান অতিথি মোঃ ফসিউল্লাহ্ বলেন, “দেশের কেউ পিছিয়ে থাকবে না। এইজন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম। সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন; সেখানে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী ও সমৃদ্ধ উন্নত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারীভাবে একটি সুসংগঠিত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো বিনির্মাণ করা হচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ কর্মচারী এবং ৪ কোটি মানুষ রয়েছে। যারা সকলেই আগামী দিনে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আসবে বলে আমরা মনে করি। বিশাল এই নেটওয়ার্ক এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’’
সর্বজনীন পেনশন স্কিম- এর পরিচালন ব্যবস্থা তুলে ধরে সম্মানীয় অতিথি কবিরুল ইজদানী খান বলেন- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনয়নে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন। এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী জনকল্যাণমূখী পদক্ষেপ; যা সকল নাগরিকের অবসরকালীন আর্থিক মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামীতে দেশের জনসংখ্যার বৃহৎ একটি অংশ সত্তরের উর্ধ্বে চলে যাবে এবং দেশ তখন একটি দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়বে বলে আগাম পরিকল্পনা হিসেবে এই কর্মসূচি অনেকটা সহায়ক হবে।”
বিশেষ অতিথি ডা. এ,বি,এম, আবু হানিফ তার বক্তব্যে বলেন, “যতই দিন যাচ্ছে পরিবারগুলো একক হয়ে যাচ্ছে। তাই একক পরিবারগুলোতে বৃদ্ধ মানুষদের দেখভালের জন্য এই স্কিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই স্কিমে যেন উপযুক্ত সকল মানুষ সংযুক্ত হতে পারে সেজন্য আমাদের সবাইকে অ্যাডভোকেসি করতে হবে।“
বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, “সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমাদের মনে রাখতে হবে যা কিছু আইনের মাধ্যমে হয়, তার গ্যারান্টি সরকার অবশ্যই দিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে এটি বুঝাতে হবে।’’
সমাপনি ব্ক্তব্যে সভাপতি বলেন, “এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম সর্বস্তরে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে অনেক মানুষ এই কর্মসূচির সাথে সংযুক্ত হবে; দেশ এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে এসকেএস ফাউন্ডেশন তার সকল প্রয়াস অব্যাহত রাখবে।‘’
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এসকেএস ফাউন্ডেশন- এর নির্বাহী প্রধান রাসেল আহম্মেদ লিটন বলেন, “এসকেএস ফাউন্ডেশন সরকারের একটি সহযোগি সংগঠন হিসেবে নাগরিক জীবনমান সুরক্ষা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। আজকের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসকেএস- এর কর্মীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম- এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। একই সাথে সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সকল অংশীজনকে এই পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে জোর প্রচারনা ও উৎসাহিত করার কাজটিও আমরা শুরু করলাম।“
সভায় গাইবান্ধা জেলার স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, ইমাম, এনজিও কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, জনপ্রতিনিধি, মিডিয়া কর্মী, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন পেশাজীবিরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা পেনশন স্কিম- এর বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন এবং স্থাপিত তথ্যকেন্দ্র থেকে সর্বজনীন পেনশন স্কিম- এর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।