ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জের শাল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি’র সংঘর্ষে আহত ৭জন কিষান মজদুর ইউনাইটেড একাডেমির ৬০ বছর পূর্তি সম্মিলন হীরক জয়ন্তী উদযাপন পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাইলে তাদের প্রতি শুভকামনা নেই: ছাত্রদল সভাপতি রাউজানে মা ভাই ও বোনের হাতে খুন প্রকৌশলী কালীগঞ্জে দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনমিলনী অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভাঙন শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের ১৫৪ তম শুভ আবির্ভাব স্মরণোৎসব উদযাপিত গোপালগঞ্জে ফকির বংশের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২৫ আলমডাঙ্গায় কুখ্যাত মাদক সম্রাগী মিনি বেগম পুলিশের কাছে গ্রেফতার সময়ের সাথেসাথে ঈদের হাসিখুশির পরিবর্তন

সময়ের সাথেসাথে ঈদের হাসিখুশির পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

তৌফিকুর রহমান তাহের,(সুনামগঞ্জ)দিরাই-শাল্লা প্রতিনিধি:-আগেকারদিনের ঈদ ও বর্তমানের ঈদে রয়েছে বিরাট পরিবর্তনের রঙে রাঙানোর যান্ত্রিক আনন্দের উৎসব।

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ,তবে সময়ের বিবর্তনে ঈদ উদযাপনের ধরন, অনুভূতি ও অভ্যাসেও এক আমল পরিবর্তন এসেছে। শৈশবের ঈদ ছিল এক অন্যান্য অনুভূতির আরেক নাম,যেখানে ছোট ছোট খুশির ভাণ্ডারসহ লুকিয়ে থাকত কত্তরকম আনন্দ!এখনও ঈদ আসে সত্যি,কিন্তু আনন্দও হয়, কিন্তু সেই নির্ভেজাল উচ্ছ্বাস,লুকায়িত,আনন্দ যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছে।

শৈশবে ঈদ মানেই ছিল এক অন্যরকম-অনিভূতি আর আনন্দের উন্মাদনা।সেই আনন্দ উন্মাদনা কোথায় আস্তে আস্তে কালের বিবর্তনে কোথায় যেন হারিয়ে গেল,কেউ টেরও পায়নি।এবিষয়ে ওয়াহিদুল তালুকদার রবিনকে জিজ্ঞেস করলে বলেন,এসবের মূল কারণ মানুষের প্রতি মানুষের মায়া,আস্তা,ভালাবসা,শ্রদ্ধাবোধ নেই বললেই চলে,যার জন্য আজকালকার ঈদে শৈশবের আনন্দের লেশমাত্রাও নেই।ঈদের মাঠথেকে-ঘরের কোণপর্যন্ত শুধু হিংসা,প্রতিহিংসা।যতদিন পর্যন্ত সমাজথেকে হিংসা,প্রতিহিংসা বিদায় না নিবে ততদিন পর্যন্ত আগেকার মতো প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর আনন্দ উন্মাদনা আর ফিরে আসবেনা। উনবিংশ শতাব্দীর রমজানের শেষদশকে চাঁদ দেখার অপেক্ষা ছিল রীতিমতো পারিবারিক এক অনুষ্ঠান। উঠোনে সবাই মিলে চাঁদ দেখার প্রতিযোগিতা চলতো।কেউ আগে দেখে চিৎকার করে উঠলে বাকিরাও দৌড়ে বেরিয়ে আসত। ‘ঈদ মোবারক’ বলে সবাইকে জড়িয়ে ধরে করতো কোলাকুলি সাথে সাথে চোখে আসতো ছলছল জল,সে মুহূর্তগুলো ছিল খুব আনন্দে,ভরপুর আর আজকাল ম্লানমুখে চলে ডিজিটাল কোলাকুলি।
ঈদ কার্ড বিনিময় ছিল এক রঙিন অধ্যায়, যা ঈদের পূর্বমুহুর্তে ছিল ভিউকার্ড কেনার প্রতিযোগিতা।দূরের বন্ধুদের ডাকযোগে ভিউকার্ড পাঠিয়ে দিয়ে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করত।স্বগৌরবে কে কয়টি ভিউকার্ড পাঠিয়েছে চলতো আড্ডায় বসে আনন্দের তর্ক।
রেডিও হাতে নিয়ে বসে শুনতো ঈদের অনুষ্ঠান সময়সূচি।টেলিভিশনে সিনেমা দেখার নেশায় চলে যেতে একথেকে অন্যগ্রামে।

ঈদের মূল আনন্দ শুরু হতো নতুন পোশাক কেনার মধ্য দিয়ে। দোকানে গিয়ে পছন্দের পোশাক কেনার উত্তেজনা ছিল অপরিসীম। আত্মীয়দের দেওয়া নতুন পোশাক পরে ঈদের সকালে দলবদ্ধ ঘুরে বেড়ানোর মজাই ছিল,অন্যরকম। সালামি আদায় করা ছিল ঈদের অন্যতম আকর্ষণ, যা শিশুদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিত। দাদা-দাদির হাত থেকে প্রথম নোট পাওয়ার পর সেটি গুনে গুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে দৌড়াদৌড়ি করত দলবেঁধে। গ্রামের ঈদ ছিল প্রচন্ড মায়ার,ভালবাসার,আর সবচেয়ে আরো রঙিন।খোলা মাঠে ঈদের নামাজ, তারপর পুকুরে গোসল করে নতুন জামা পরে আত্মীয়দের বাড়ি বাড়ি বেড়ানো ছিল ঈদের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিটি ঘরে গিয়ে সেমাই,বিভিন্ন নকশী (হাতেরকাটা) পুয়াপিঠা পাপড়া,পায়েস,খাওয়া যেন এক অলিখিত নিয়ম ছিল।হাটতে হাটতে পিঠা খাওয়া আরোও চলতো পিঠা খাওয়ার প্রতিযোগীতা।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ঈদের আনন্দের ধরনও বদলে গেছে। এখন আর চাঁদ দেখার জন্য ছাদে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; স্মার্টফোনের স্ক্রিনেই জেনে নেয় ঈদের তারিখ। পোশাক কেনার জন্য দোকানে যাওয়ার পরিবর্তে অনলাইনে অর্ডার দিলেই বাসায় পৌঁছে যায় পছন্দের পোশাক। সালামির ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন—মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ঈদি’ পাঠানো হয়, নগদ টাকার সেই উচ্ছ্বাস আর অনুভূতি কমে এসেছে।ঈদের সকালেও পরিবর্তন এসেছে। গ্রামের খোলা মাঠের পরিবর্তে শহরের ঈদগাহ বা মসজিদে সংক্ষিপ্ত নামাজ আদায় করেই অনেকে বাসায় ফিরে যান। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার বদলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ভিডিও কল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ার মধ্যে। ছোটদের ঈদের আনন্দ এখন সীমাবদ্ধ টিভির ঈদ স্পেশাল প্রোগ্রাম ও ভিডিও গেমসের মধ্যে।

তবে পরিবর্তন মানেই যে সবকিছু ম্লান হয়ে গেছে, তা নয়। বর্তমান ঈদের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এখন মানুষ ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যায়, নতুন জায়গা ঘুরে দেখে। অনলাইনের সুবাদে দূরের আত্মীয়দের সঙ্গেও সহজেই যোগাযোগ করা যায়। আগে হয়তো দূরবর্তী প্রিয়জনদের সাথে ঈদে কথা বলার সুযোগ কম ছিল, কিন্তু এখন ভিডিও কলে কাছের মানুষকে দেখার সুযোগ এসেছে।

ঈদের প্রকৃত আনন্দ হলো একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করা। শৈশবের ঈদের মতো বর্তমানের ঈদকেও প্রাণবন্ত করে তুলতে হলে আমাদের পরিবার ও সমাজের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। ছোটদের সালামির আনন্দ দিতে হবে, আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে হবে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ঈদ মানেই নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার, দাওয়াত ও উপহার, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিক প্রশান্তি। আমরা যদি সবাই মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি, তবে ঈদের প্রকৃত রূপ ফিরে আসবে।

ঈদ বদলেছে, কিন্তু এর মূল চেতনা বদলায়নি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে আমাদের উদযাপনের ধরন পাল্টে গেলেও, ঈদের আনন্দের মূল সূত্র থেকে আমরা যেন কখনো দূরে না সরে যাই। তাই আসুন, এই ঈদে শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং সবাইকে নিয়ে একসাথে আনন্দ ভাগ করে নিই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমি এই প্লাটফর্মটি তৈরী করেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের কন্ঠস্বর হিসাবে পরিচালিত করার জন্য।আমরা অবিরত থাকবো সততা নিয়ে সত্যের সাথে। দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র পত্রিকা এ দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত গনমানুষের কথা বলবে এবং সত্য প্রকাশে থাকবে আপোষহীন।
ট্যাগস :

সময়ের সাথেসাথে ঈদের হাসিখুশির পরিবর্তন

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

তৌফিকুর রহমান তাহের,(সুনামগঞ্জ)দিরাই-শাল্লা প্রতিনিধি:-আগেকারদিনের ঈদ ও বর্তমানের ঈদে রয়েছে বিরাট পরিবর্তনের রঙে রাঙানোর যান্ত্রিক আনন্দের উৎসব।

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ,তবে সময়ের বিবর্তনে ঈদ উদযাপনের ধরন, অনুভূতি ও অভ্যাসেও এক আমল পরিবর্তন এসেছে। শৈশবের ঈদ ছিল এক অন্যান্য অনুভূতির আরেক নাম,যেখানে ছোট ছোট খুশির ভাণ্ডারসহ লুকিয়ে থাকত কত্তরকম আনন্দ!এখনও ঈদ আসে সত্যি,কিন্তু আনন্দও হয়, কিন্তু সেই নির্ভেজাল উচ্ছ্বাস,লুকায়িত,আনন্দ যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছে।

শৈশবে ঈদ মানেই ছিল এক অন্যরকম-অনিভূতি আর আনন্দের উন্মাদনা।সেই আনন্দ উন্মাদনা কোথায় আস্তে আস্তে কালের বিবর্তনে কোথায় যেন হারিয়ে গেল,কেউ টেরও পায়নি।এবিষয়ে ওয়াহিদুল তালুকদার রবিনকে জিজ্ঞেস করলে বলেন,এসবের মূল কারণ মানুষের প্রতি মানুষের মায়া,আস্তা,ভালাবসা,শ্রদ্ধাবোধ নেই বললেই চলে,যার জন্য আজকালকার ঈদে শৈশবের আনন্দের লেশমাত্রাও নেই।ঈদের মাঠথেকে-ঘরের কোণপর্যন্ত শুধু হিংসা,প্রতিহিংসা।যতদিন পর্যন্ত সমাজথেকে হিংসা,প্রতিহিংসা বিদায় না নিবে ততদিন পর্যন্ত আগেকার মতো প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর আনন্দ উন্মাদনা আর ফিরে আসবেনা। উনবিংশ শতাব্দীর রমজানের শেষদশকে চাঁদ দেখার অপেক্ষা ছিল রীতিমতো পারিবারিক এক অনুষ্ঠান। উঠোনে সবাই মিলে চাঁদ দেখার প্রতিযোগিতা চলতো।কেউ আগে দেখে চিৎকার করে উঠলে বাকিরাও দৌড়ে বেরিয়ে আসত। ‘ঈদ মোবারক’ বলে সবাইকে জড়িয়ে ধরে করতো কোলাকুলি সাথে সাথে চোখে আসতো ছলছল জল,সে মুহূর্তগুলো ছিল খুব আনন্দে,ভরপুর আর আজকাল ম্লানমুখে চলে ডিজিটাল কোলাকুলি।
ঈদ কার্ড বিনিময় ছিল এক রঙিন অধ্যায়, যা ঈদের পূর্বমুহুর্তে ছিল ভিউকার্ড কেনার প্রতিযোগিতা।দূরের বন্ধুদের ডাকযোগে ভিউকার্ড পাঠিয়ে দিয়ে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করত।স্বগৌরবে কে কয়টি ভিউকার্ড পাঠিয়েছে চলতো আড্ডায় বসে আনন্দের তর্ক।
রেডিও হাতে নিয়ে বসে শুনতো ঈদের অনুষ্ঠান সময়সূচি।টেলিভিশনে সিনেমা দেখার নেশায় চলে যেতে একথেকে অন্যগ্রামে।

ঈদের মূল আনন্দ শুরু হতো নতুন পোশাক কেনার মধ্য দিয়ে। দোকানে গিয়ে পছন্দের পোশাক কেনার উত্তেজনা ছিল অপরিসীম। আত্মীয়দের দেওয়া নতুন পোশাক পরে ঈদের সকালে দলবদ্ধ ঘুরে বেড়ানোর মজাই ছিল,অন্যরকম। সালামি আদায় করা ছিল ঈদের অন্যতম আকর্ষণ, যা শিশুদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিত। দাদা-দাদির হাত থেকে প্রথম নোট পাওয়ার পর সেটি গুনে গুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে দৌড়াদৌড়ি করত দলবেঁধে। গ্রামের ঈদ ছিল প্রচন্ড মায়ার,ভালবাসার,আর সবচেয়ে আরো রঙিন।খোলা মাঠে ঈদের নামাজ, তারপর পুকুরে গোসল করে নতুন জামা পরে আত্মীয়দের বাড়ি বাড়ি বেড়ানো ছিল ঈদের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিটি ঘরে গিয়ে সেমাই,বিভিন্ন নকশী (হাতেরকাটা) পুয়াপিঠা পাপড়া,পায়েস,খাওয়া যেন এক অলিখিত নিয়ম ছিল।হাটতে হাটতে পিঠা খাওয়া আরোও চলতো পিঠা খাওয়ার প্রতিযোগীতা।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ঈদের আনন্দের ধরনও বদলে গেছে। এখন আর চাঁদ দেখার জন্য ছাদে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; স্মার্টফোনের স্ক্রিনেই জেনে নেয় ঈদের তারিখ। পোশাক কেনার জন্য দোকানে যাওয়ার পরিবর্তে অনলাইনে অর্ডার দিলেই বাসায় পৌঁছে যায় পছন্দের পোশাক। সালামির ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন—মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ঈদি’ পাঠানো হয়, নগদ টাকার সেই উচ্ছ্বাস আর অনুভূতি কমে এসেছে।ঈদের সকালেও পরিবর্তন এসেছে। গ্রামের খোলা মাঠের পরিবর্তে শহরের ঈদগাহ বা মসজিদে সংক্ষিপ্ত নামাজ আদায় করেই অনেকে বাসায় ফিরে যান। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার বদলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ভিডিও কল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ার মধ্যে। ছোটদের ঈদের আনন্দ এখন সীমাবদ্ধ টিভির ঈদ স্পেশাল প্রোগ্রাম ও ভিডিও গেমসের মধ্যে।

তবে পরিবর্তন মানেই যে সবকিছু ম্লান হয়ে গেছে, তা নয়। বর্তমান ঈদের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এখন মানুষ ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যায়, নতুন জায়গা ঘুরে দেখে। অনলাইনের সুবাদে দূরের আত্মীয়দের সঙ্গেও সহজেই যোগাযোগ করা যায়। আগে হয়তো দূরবর্তী প্রিয়জনদের সাথে ঈদে কথা বলার সুযোগ কম ছিল, কিন্তু এখন ভিডিও কলে কাছের মানুষকে দেখার সুযোগ এসেছে।

ঈদের প্রকৃত আনন্দ হলো একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করা। শৈশবের ঈদের মতো বর্তমানের ঈদকেও প্রাণবন্ত করে তুলতে হলে আমাদের পরিবার ও সমাজের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। ছোটদের সালামির আনন্দ দিতে হবে, আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে হবে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ঈদ মানেই নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার, দাওয়াত ও উপহার, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিক প্রশান্তি। আমরা যদি সবাই মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি, তবে ঈদের প্রকৃত রূপ ফিরে আসবে।

ঈদ বদলেছে, কিন্তু এর মূল চেতনা বদলায়নি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে আমাদের উদযাপনের ধরন পাল্টে গেলেও, ঈদের আনন্দের মূল সূত্র থেকে আমরা যেন কখনো দূরে না সরে যাই। তাই আসুন, এই ঈদে শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং সবাইকে নিয়ে একসাথে আনন্দ ভাগ করে নিই।