ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শীর্ষ প্রতারক মামলাবাজ চিকিৎসক পরিবার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ ১২ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ মাসুদ: চট্টগ্রামে ভদ্র ছদ্মবেশী পেশার আড়ালে এক শীর্ষ প্রতারক মামলাবাজ প্রতারক চিকিৎসক পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে একাধিক ভুক্তভোগীর। একাধিক অভিযোগ করেও প্রতারকের ফাঁদে ফাঁকে জালে অপূরনীয় ক্ষয়ক্ষতির শিকার পদেপদে। প্রশাসন ও পুলিশের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১ টায় নগরীর কাজীর দেউড়ির অ্যাপোলো শপিং সেন্টারের তৃতীয় তলার ক্যাফে–৩১ এ এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মোঃ জামশেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডাঃ চিন্ময় বড়ুয়া (ফরেনসিক বিভাগ, চমেক হাসপাতাল), ডাঃ শরমিলা বড়ুয়া (চমেক হাসপাতাল), ডাঃ তন্ময় বড়ুয়া (জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা) ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে অবস্থিত পাঁচতলা ভবন ‘মায়ার খেলা’ (ঠিকানা: ১৫৬৭/এফ, সি-১, এয়ার মোহাম্মদ স্কুল লেইন, কে.বি আমান আলী রোড, পশ্চিম বাকলিয়া, চট্টগ্রাম) ২০২১ সালের ১১ আগস্ট আইএফআইসি ব্যাংক, খুলশী শাখায় বন্ধক রাখা হয়। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তীতে একই সম্পত্তি একাধিকজনের কাছে বিক্রি ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রায় ১০০–১৫০টি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৬০–৭০টিরও বেশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা সংক্রান্ত ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে। কিন্তু তবুও প্রতারক পরিবারকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বাকলিয়া থানার ওসির সাথে দেখা করলে তিনি আসামিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো জামিন নেওয়ার জন্য সময় দেওয়ার অনুরোধ করেন, যা ভুক্তভোগীদের আরও হতাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। ১. অবিলম্বে প্রতারক পরিবারকে গ্রেপ্তার করা।
২. ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। ৩. পুলিশের নীরব ভূমিকার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে আনা। ৪. ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করতে না পারে-সে জন্য প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা।

এসময় ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারক পরিবার বিভিন্ন নামে-বেনামে ব্যবসা করছে এবং পাওনাদারদের টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোলেমান বাদশা, মোঃ দেলোয়ার মিয়া, ইকবাল, হোসেন, আবদুর রশিদ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মামুনুর রশিদ, মোঃ শাহ আলম, সেলিম উদ্দিন, শাহ নেওয়াজ সাগর, রুমেন খোকাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এই পত্রিকার মূল স্লোগান হলো "সত্য প্রকাশে আপোষহীন"।আমরা এ দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের কথা বলি।একজন অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে অন্যায় প্রতিরোধে সাহায্য করতে আমরা সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র পত্রিকা গনমানুষের কথা বলে।
ট্যাগস :

শীর্ষ প্রতারক মামলাবাজ চিকিৎসক পরিবার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৯:৩২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

মোহাম্মদ মাসুদ: চট্টগ্রামে ভদ্র ছদ্মবেশী পেশার আড়ালে এক শীর্ষ প্রতারক মামলাবাজ প্রতারক চিকিৎসক পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে একাধিক ভুক্তভোগীর। একাধিক অভিযোগ করেও প্রতারকের ফাঁদে ফাঁকে জালে অপূরনীয় ক্ষয়ক্ষতির শিকার পদেপদে। প্রশাসন ও পুলিশের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১ টায় নগরীর কাজীর দেউড়ির অ্যাপোলো শপিং সেন্টারের তৃতীয় তলার ক্যাফে–৩১ এ এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মোঃ জামশেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডাঃ চিন্ময় বড়ুয়া (ফরেনসিক বিভাগ, চমেক হাসপাতাল), ডাঃ শরমিলা বড়ুয়া (চমেক হাসপাতাল), ডাঃ তন্ময় বড়ুয়া (জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা) ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে অবস্থিত পাঁচতলা ভবন ‘মায়ার খেলা’ (ঠিকানা: ১৫৬৭/এফ, সি-১, এয়ার মোহাম্মদ স্কুল লেইন, কে.বি আমান আলী রোড, পশ্চিম বাকলিয়া, চট্টগ্রাম) ২০২১ সালের ১১ আগস্ট আইএফআইসি ব্যাংক, খুলশী শাখায় বন্ধক রাখা হয়। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তীতে একই সম্পত্তি একাধিকজনের কাছে বিক্রি ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রায় ১০০–১৫০টি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৬০–৭০টিরও বেশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা সংক্রান্ত ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে। কিন্তু তবুও প্রতারক পরিবারকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বাকলিয়া থানার ওসির সাথে দেখা করলে তিনি আসামিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো জামিন নেওয়ার জন্য সময় দেওয়ার অনুরোধ করেন, যা ভুক্তভোগীদের আরও হতাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। ১. অবিলম্বে প্রতারক পরিবারকে গ্রেপ্তার করা।
২. ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। ৩. পুলিশের নীরব ভূমিকার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে আনা। ৪. ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করতে না পারে-সে জন্য প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা।

এসময় ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারক পরিবার বিভিন্ন নামে-বেনামে ব্যবসা করছে এবং পাওনাদারদের টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোলেমান বাদশা, মোঃ দেলোয়ার মিয়া, ইকবাল, হোসেন, আবদুর রশিদ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মামুনুর রশিদ, মোঃ শাহ আলম, সেলিম উদ্দিন, শাহ নেওয়াজ সাগর, রুমেন খোকাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।