
সুনামগঞ্জ দিরাই-শাল্লা প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বাড়িতে তিন দিন ধরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এই হামলায় তাদের ৬০-৭০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামে গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এই তাণ্ডব চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের পূর্বপাশে একটি পতিত জমির দখল নিয়ে আজব আলী এবং রূপ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সেই জেরেই গত ৩১ অক্টোবর দুপুর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে রূপ মিয়ার চাচাতো ভাই আবদুল মান্নান (৭০) নিহত হন এবং উভয় পক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হন।
হত্যার ঘটনার পর আজব আলীর পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। এই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য:
ভয়াবহ এই সহিংসতার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী নারীরা জানান, নির্যাতন আর লুটপাটের কথা বলে শেষ করা যাবে না। ঘরে যা পেয়েছে—নগদ ৮ লাখ টাকা, ধান কাটার মেশিন, পাওয়ার টিলার, ৪০-৪৫টি গরু, ৬টি মোটরসাইকেল, স্বর্ণালঙ্কার, ধান, চাল, নৌকা, ট্রলি, ইঞ্জিন, মটর, গ্যাস সিলিন্ডার ও তালাবাসনসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া একটি বাড়ির প্রায় ৫০ কিয়ার জমির খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
এক নারী জানান, রাতে এসে ঘরের দরজা খোলার জন্য লাথি মারা হয়েছে, গালিগালাজ করা হয়েছে। ভয়ে তারা দরজা খোলেননি। বাইরে থাকা দুটি মেশিন, চারটি গরু ও একটি নৌকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
মাসুম মিয়ার স্ত্রী মোছা. আসমিনা বেগম বলেন, “বাড়ির সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। তিন দিনের লুটপাটে আমরা এখন পথে ফকির হয়ে গেছি। নগদ ৮ লাখ টাকাসহ ৪০০ মণ ধান, ২০ মণ চাল, ৩ ভরি স্বর্ণ, ১৭টি গরু, ফ্রিজ, পানির মোটর, মোটরসাইকেল, ট্রলি, ধান ভাঙানোর মেশিন—ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে গেছে। আমরা এখন চলব কীভাবে?”
তিন দিন ধরে চলা এই তাণ্ডবে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, “সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর গ্রামে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কিছু ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে গ্রামের বাজারে পুলিশ মোতায়েন আছে। রাতের আঁধারে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা শুনছি। ভৌগোলিক কারণে প্রতিটি বাড়ি-ঘরে তাৎক্ষণিক পুলিশের যাওয়া কঠিন হলেও পুলিশ এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট লুটপাটের লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।