
মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী;
ইউএনওর নেতৃত্বে রাতভর অভিযান, যাত্রীদের স্বস্তি—‘এভাবেই চলুক অভিযান’ দাবি সাধারণ মানুষের
সোনাগাজী প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে রাত নামলেই সোনাগাজীর বিভিন্ন সড়কে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল কিছু অসাধু সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে। দিনের নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ, কখনও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে যাত্রীদের জিম্মি করার অভিযোগে ক্ষোভ জমে উঠছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছিল ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদ। অবশেষে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা গেট সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে ৫ জন সিএনজি চালককে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু চালক যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী ও দূরবর্তী এলাকার যাত্রীরা প্রায়ই এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হতেন। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলা গেট এলাকায় সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেন সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা। অভিযানের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়।
অভিযান চলাকালে কয়েকজন যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করলে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পায়। পরে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী ৫ জন সিএনজি চালককে মোট ১ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইউসুফ মিয়া। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ আইন অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদেরও নির্ধারিত ভাড়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে অভিযানের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই ইউএনও রিগ্যান চাকমা ও এসিল্যান্ড মো. ইউসুফ মিয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। কেউ কেউ এটিকে ‘জনবান্ধব প্রশাসনের উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রাতের বেলা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা ছিল। প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে শুধু অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নয়, পরিবহন খাতে অন্যান্য অনিয়মও অনেকাংশে কমে আসবে।
একজন যাত্রী বলেন, “রাতে প্রয়োজনের সময় সিএনজি পাওয়া গেলেও ভাড়া নিয়ে চালকদের সঙ্গে প্রায়ই তর্কে জড়াতে হতো। প্রশাসনের এই অভিযান আমাদের জন্য স্বস্তির খবর। নিয়মিত এমন অভিযান হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।”
সচেতন মহলের অভিমত, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যাত্রী ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে।
সোনাগাজীবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই উদ্যোগ সাময়িক অভিযানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জনস্বার্থে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত হবে আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সাশ্রয়ী