
মো: এরশাদ আলী
স্টাফ রিপোর্টার।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমানকে উপেক্ষা করে পাঁচন্দর ইউনিয়নের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের উদ্যোগের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তানোর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ সোমবার বিকেল ৬ টায় এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি তানোর থানার মোড় থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তানোর থানা মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তানোর উপজেলা আমীর মাওলানা আলমগীর হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, “রাজশাহী-১ আসনের জনগণ তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। জনগণের সেই রায়কে উপেক্ষা করে অন্য কাউকে দিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের উদ্যোগ শুধু একজন জনপ্রতিনিধিকে নয়, বরং গোদাগাড়ী-তানোরের লাখো ভোটারের গণরায়কে অবজ্ঞা করার শামিল। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপচেষ্টা এ এলাকার সচেতন জনগণ কখনো মেনে নেবে না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা দলীয় প্রচারণার হাতিয়ার বানানোর প্রবণতা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। যারা জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অবমূল্যায়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তারা মূলত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করুন। অন্যথায় তানোর-গোদাগাড়ীর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত কর্মসূচির মাধ্যমে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের সম্পদ। এসব প্রকল্প কোনো ব্যক্তি বা দলের রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যম হতে পারে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে উপেক্ষা করে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে।”
সমাবেশ শেষে বক্তারা অবিলম্বে বিতর্কিত উদ্বোধনী উদ্যোগ বাতিল করে রাজশাহী-১ আসনের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের যথাযথ মর্যাদা ও সাংবিধানিক অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।