
মাসুদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
মা এর মাথার ওপর ৫ আসমানের মাথার ৪ আসমান নেই, আপন ছোট ভাই করলেন আপন মৃত ৪ ভাইয়ের জানাজার ইমামতি।
মাথার ওপর সাত আসমান টিকই আছে,শুধু এক দুখিনী মায়ের মাথার ওপর হতে ঝরে গেছে ৫ আসমানের ৪ আসমান। ১০ মাস করে ৪ সন্তানকে পেটে রেখেছিলেন ৪০ মাস আর সেই সন্তান কিনা শুধু মাত্র ৪০ সেকেন্ডেই চলে গেল সেই আসমানে? হা বলতেছিলাম রাঙ্গুনিয়ার সেই ৪ ভাইয়ের কথা, যারা সূদুর ওমানের একটি গাড়ির মধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিল একসাথেই। কথা ছিল কিছুদিন পর ছোট ভাইয়ের বিয়ে, মহা ধুমধাম করে হবে বিয়েতে। বিয়েতে কত আমুদ ফূর্তি, কত আসবে কত জনে খাবে। নিয়তীর লেখন, হাজার হাজার মানুষ আসল কিন্তু কেউ খেতে আসেনি, এসেছে ৪ ভাই কে মাটির ঘরে শায়িত করতে। ৪ ভাই গিয়েছিল বিয়ের বাজার করতে কিন্তু বিধির বিধান ৪ ভাইয়ের গায়ে এক সাথে ওঠল সাদা কাপনের কাপড়।
কোনো ফুলের মঞ্চ তৈরি হয়নি হয়েছে সারি সারি চারটি মাটির ঘর আর চারটি কাটিয়া পাশাপাশি। যে কাটিয়ায় উঠলে মানুষ আর নামতে পারে না। চলে যায় শেষ বিদায়ের ঘরে। ১ ভাইয়ের বেঁচে থাকা আর ৪ ভাইয়ের জানাজায় হয়েছে একসাথে। একসাথে শুয়ে দেওয়া হয়েছে পাশাপাশি চার ভাইকে মাটির ঘরে। চির নিদ্রায় শায়িত হল ৪ ভাই, আর মা বেচারি আকাশ বাতাস ভারি করে তুলছে দুনিয়ায়। আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠতেছে, সেই সাথে কান্নায় ভেঙ্গে পরেছে পুরো এলাকা। কি হৃদয় বিদারক এক ঘটনা। উলেখ্য, ওমানে একটি গাড়ির ভিতরে গাড়ির এসি বিষাক্ত গ্যাসে একসাথে ৪ ভাই মৃত্যু বরণ করেছিলেন। আজ নিয়ে আসা হল চার ভাইয়ের লাশ। লাশ রাঙ্গুনিয়ার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে শুরু হয় শোকের মাতম। হাজার হাজার মানুষ জানাজায় উপস্থিত হয়। এর এয়ারপোর্টে চার ভাইয়ের মৃত দেহ আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহণ করেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হম্মাম কাদের চৌধুরী। তারপর তাদের পরিবর কে বুঝিয়ে দেওয়া হয় মৃত দেহ গুলো। তারপর মৃতদেহ চলে যায় তাদের শেষ ঠিকানা রাঙ্গুনিয়া নালা নগর ইউনিয়নে।