
নিজস্ব সংবাদদাতা
হবিগঞ্জে জেলাধীন মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সোয়াবই ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামে এক যুবকের নিখোঁজ হওয়া ও অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ, বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোয়ারই গ্রামের বাসিন্দা ফুয়াদ হাসান সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে গত শনিবার রাতে গহরপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল খামারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে সাকিবের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় সোয়ারই গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসীরা সাকিবকে উদ্ধারের দাবিতে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরের চৌগাছায় বাওড়ের গার্ড আতিয়ারকে জবাই করে হত্যা!
আসাদ,ষ্টাফ রিপোর্টার:-
যশোরের চৌগাছার সিংহঝুলী ইউনিয়নের পিতম্বরপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান নামে বেড়গোবিন্দপুর বাওড় এলাকা থেকে বাওড় গার্ডের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
নিহত আতিয়ার রহমান (৪২) উপজেলার লস্করপুর গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে। তিনি বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রোববার (২১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নিহতের ভাতিজা হাসান- বেড় গোবিন্দপুর বাওড়ের একটি ক্যানেলে কচুরি পানার নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান।
পরে তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) সকাল থেকে আতিয়ার রহমান নিখোঁজ ছিলেন।
একাধিক সূত্র জানাগেছে,দুর্বৃত্তরা পূর্ব শত্রুতার জেরে আতিয়ার রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও পেটে আঘাত করে হত্যা করেছে।
এছাড়াও তাঁর পিঠের ডান পাশে বগলের নিচেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে জবাই করে হত্যার পর মরদেহ কচুরি পানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ খবর পেয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনূর রশিদ পিপিএম ও পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আমিন সিকদার সহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনস্থলে ছুটে যান।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ পিপিএম জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত যেই থাকুক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আশা করি খুব শিঘ্রই এ হত্যা কান্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
ইতোমধ্যে আমরা ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমান (৩০) ও লস্করপুর গ্রামের সফেদ আলী মন্ডলের ছেলে রাশেদ (৩৮) নামে দুই জনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।