মনিরামপুরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ, অভিযুক্ত আটক করে পুলিশে সোপর্দ
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

এমদাদুল হক,ক্রাইম রিপোর্টার মনিরামপুরঃ
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হারুন অর রশিদ (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন চন্ডীপুর গ্রামের রুবিনা বেগম ও তার মা জাহানারা বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হানুয়ার গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে হারুন অর রশিদ প্রায় ১২ বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে চন্ডীপুর গ্রামের নুর মুহাম্মদ আলীর মেয়ে রুবিনা খাতুনকে বিবাহ করেন। কিছুদিন সংসার ভালোভাবে চললেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, হারুন অর রশিদ প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে রুবিনা বাবার বাড়ি চলে যান এবং বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। পরে গ্রাম্য মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় পুনরায় তাদের বিবাহ হয়। তবে পুনরায় সংসার শুরু হলেও নির্যাতনের অভিযোগ বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন রুবিনা।
রুবিনা বেগম জানান, স্বামী প্রবাস জীবন শেষে দেশে এসে মাদকে জড়িয়ে পড়েন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে তিনি প্রায়ই তার কাছে অর্থ দাবি করতেন। রুবিনা বাবার বাড়িতে থেকে সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং অসুস্থ মাকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, হারুন অর রশিদ প্রায়ই চন্ডীপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে রুবিনার কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিতেন। এছাড়া তার মোবাইলে থাকা কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে অশালীন মন্তব্যের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে টাকা দাবি নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হারুন অর রশিদ একটি মোটা লাঠি দিয়ে রুবিনা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে তার মা জাহানারা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত হারুন অর রশিদকে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে এবং তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে রাজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্প থেকে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
রাতে সামান্য সুস্থ হয়ে রুবিনা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেন। তবে পারিবারিক পরামর্শে তাৎক্ষণিক মামলা না করে পুনরায় বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ি ফিরে যান বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক সহিংসতা ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মনিরামপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















