মণিরামপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা: বার্ধক্য ও অসুস্থতার যন্ত্রণায় চরম পরিণতি
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

এমদাদুল হক,ক্রাইম রিপোর্টার মনিরামপুরঃ
যশোরের মনিরামপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে রাবেয়া বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রাবেয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন রাবেয়া বেগম। শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি প্রায়ই অসহনীয় কষ্টে দিন কাটাতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার হঠাৎ তার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ব্যথার তীব্রতা এতটাই ছিল যে তিনি কিছুই খেতে পারেননি। ক্রমাগত শারীরিক যন্ত্রণায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
অভিযোগ নেই, তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়—একজন বৃদ্ধা কি এভাবেই অসহায় যন্ত্রণায় জীবন শেষ করবেন?
শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকাকালে সুযোগ বুঝে নিজ ঘরের বারান্দায় ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। বেলা প্রায় ১১টার দিকে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে নিচে নামান এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফন-কাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গ্রামবাসীর মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অসুস্থতা ও শারীরিক যন্ত্রণাই তাকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তবে এ ঘটনা সমাজ ও পরিবারের প্রতি এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—বার্ধক্যে পৌঁছানো মানুষগুলো কতটা সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা পাচ্ছেন?
একটি নিঃশব্দ মৃত্যু হয়তো পরিসংখ্যানের খাতায় একটি সংখ্যা হয়ে থাকবে, কিন্তু ভবানীপুর গ্রামের মানুষের কাছে এটি এক করুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে


















