
আবু তালেব বিশেষ প্রতিনিধি
দ্রুত ও বিনা জামানতে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে বিভিন্ন অনলাইন লোন অ্যাপ—এমন অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। ‘পপ ক্যাশ’, ‘সাথি লোন’, ‘বঙ্গ ক্যাশ’সহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার কথা বলে পরে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানে এমন কয়েকটি ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে স্বল্প পরিমাণ ঋণ নিয়ে গ্রাহকদের অনেক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি ‘পপ ক্যাশ’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ নেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপের মুখে তাকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকা পরিশোধের পরও তার কাছে আরও অর্থ দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
আরেক ভুক্তভোগী মিরপুরের সাঈদ মিয়া। তার অভিযোগ, তিনি একই ধরনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকা ঋণ নেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে ৮১ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে ধারদেনা করে তিনি ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু বাকি টাকা না দেওয়ায় তার ফোনের কন্টাক্ট লিস্টে থাকা পরিচিতজন, আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীদের ফোন করে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অ্যাপ মোবাইলে ইনস্টল করার সময় বিভিন্ন ধরনের অনুমতি চায়। ব্যবহারকারী অনুমতি দিলে ফোনের কন্টাক্ট লিস্ট, ছবি কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাক্সেস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এরপর ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য ফোনকল, মেসেজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অচেনা বা সন্দেহজনক লোন অ্যাপ ব্যবহারের আগে অ্যাপটির বৈধতা, প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলো ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো অ্যাপকে কন্টাক্ট, ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্যের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
অনলাইনে দ্রুত ঋণের প্রলোভনে পড়ে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক সুদ, স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধের চাপ এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি—এসবকে প্রতারণার সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
একই সঙ্গে অ্যাপ স্টোর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সন্দেহজনক অনলাইন লোন অ্যাপের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।