
তৌফিকুর রহমান তাহের,শাল্লা,সুনামগঞ্জ:সুনামগঞ্জের শাল্লায় প্লাবন সরকার (২৪) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নিহত প্লাবনের বড় ভাই প্রণয় সরকার বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে শাল্লা থানায় এই অভিযোগ জানান।
অভিযোগে মামুদনগর গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও হারুন মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলামসহ (৩২) অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত প্লাবন সরকার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর বাজারে দর্জির কাজ শেখার পর মামুদনগর বাজারে নিজের একটি দোকান খোলেন। ওই সময়ে একই এলাকায় ব্যবসা করার সুবাদে মূল অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ উঠেছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান বেশ কিছু সংবেদনশীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে প্লাবনকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল, শারীরিক নির্যাতন ও সাইবার বুলিং করতে থাকেন।
ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে প্লাবন সামাজিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং তার উপার্জিত সমস্ত অর্থ হাবিবুরের পেছনে ব্যয় করতে বাধ্য হন।
হাবিবুরের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বছরখানেক আগেও প্লাবন বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেবার চিকিৎসায় তিনি প্রাণে বাঁচলেও, গত ২২ অক্টোবর বিকেলে নিজ ঘরে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে প্লাবন তার ফেসবুক আইডিতে হাবিবুরের সঙ্গে একটি যৌথ ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন— “আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি”।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্লাবনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার আগেই অভিযুক্ত হাবিবুর ও মঈনুল স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি করে প্লাবনের বাড়িতে আসেন। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকার পরীক্ষা করে প্লাবন মারা গেছেন জানানোর সাথে সাথেই অভিযুক্ত দুজন প্লাবনের স্মার্টফোনটি (যেটিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে) নিয়ে দ্রুত চম্পট দেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শাল্লা থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
ময়নাতদন্ত ও শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের পরিবার থানায় মামলা করে।
এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী প্রণয় সরকার বলেন, “আমার ছোট ভাইয়ের করুণ পরিণতির জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।