
আবু তালেব বিশেষ প্রতিনিধি:
টিনের চালা আর মুলি বাঁশের বেড়ার ছোট্ট একটি ঘর। এই ঘরেই প্রতিদিন আলো ছড়াচ্ছে দুই শতাধিক কোমলমতি শিশু। কোনো বড় তহবিল বা সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই শুধু স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশের ব্যক্তিগত অনুদানে বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে ‘মেট্রো হাউজিং প্রাথমিক বিদ্যালয়’টির শিক্ষা কার্যক্রম।
জানা যায়, মেট্রো হাউজিং কল্যাণ সমিতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল অত্যন্ত কষ্টকর পরিবেশে—খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার ওপর বসে। সেখান থেকে আজ টিনের চালা আর বাঁশের বেড়ার এক প্রকার অস্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী রূপ। অর্থের অভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থমকে আছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নেক মোহাম্মদ এক বিবৃতিতে জানান, “আমাদের এই কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারীকরণ করা এবং একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—আপনারা যেন এই এলাকার অসহায় শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরেন এবং আমাদের পাশে থাকেন।”
এলাকাবাসীর নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করে মেট্রো হাউজিং কল্যাণ সমিতির (সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত নম্বর: ১০১৪৮) সাধারণ সম্পাদক বলেন, “পাঁচই আগস্টের পর যখন গোটা এলাকা চোর, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দিনরাত পাহারা দিয়ে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। বিপদের দিনে যেমন রাজেশ খান এবং আপনারা মেট্রোবাসীকে নিরাপদ বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন, তেমনই শিক্ষার প্রসারেও আগামীতে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা পাব—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
মেট্রো হাউজিংয়ের সাধারণ বাসিন্দারা মনে করেন, এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও অভাবী শিশুদের মৌলিক অধিকার শিক্ষাকে নিশ্চিত করতে মেট্রো হাউজিং প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে অবিলম্বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা এবং আধুনিক ভবন নির্মাণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।