
মোঃ সজিব সরদার,স্টাফ রিপোর্টারঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে পটুয়াখালীর দুমকী সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ইমরানকে আটকে রাখার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে ইমরানের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে নয়, টিউবওয়েল স্থাপনের বকেয়া টাকা আনতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
ফেরার পথে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ তাঁকে আটক করে ওই নারীর বাড়িতে নিয়ে যান এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ইমরান জানান, প্রায় তিন মাস আগে ওই নারীর বাবার বাড়িতে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করে দেন তিনি। এ বাবদ ১০ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। সেই টাকা আনতেই গতকাল সন্ধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন।
ইমরানের বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ওই নারী লিমার বক্তব্যেও। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে তাঁদের বাড়িতে ইমরান একটি টিউবওয়েল স্থাপন করেন। পরে তাঁর অনুরোধে তিন মাস আগে বাবার বাড়িতেও আরেকটি টিউবওয়েল বসিয়ে দেন। এ কাজের ১০ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। স্বামীর হাত ভেঙে যাওয়ায় এবং নিজের কাছে টাকা না থাকায় ওই পাওনা পরিশোধ করতে পারেননি তিনি।
লিমার ভাষ্য, ইমরান টাকা নিতে এসে ফেরার পথে স্থানীয় কয়েকজন তরুণের হাতে আটক হন। পরে তাঁকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে এসে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে লিমার স্বামী মালয়েশিয়া থেকে ভিডিও কলে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মব সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এতে তাঁর পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন বলেন, স্থানীয় উঠতি বয়সের কয়েকজন তরুণ ইমরান নামে এক যুবককে আটক করেন। পরে তিনি গ্রাম পুলিশকে ডেকে তাঁকে গ্রাম পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জাকির হোসেন বলেন, পাওনা টাকা আনতে ওই যুবক এপারে এসেছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে তাঁকে রাতের বেলায় আসতে নিষেধ করে ওপারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।