
মো:আশরাফ,বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার:
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কঠোর নির্দেশনার এক দিনের মধ্যেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে আটজন দালালকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কম্পাউন্ডে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং র্যাব-৮-এর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আহমেদ লুনা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি দালালচক্র সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, মো. রুমান, মো. রুবেল, ছাবিনা আক্তার নাজমা, লাবনী খানম, সুমি বেগম, মিম আক্তার, আইসা আক্তার ও হাফিজা বেগম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা এবং দুইজনকে চার দিন করে কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে সতর্ক করে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের মূল ফটক ও অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে দালালচক্রটি রোগীদের টার্গেট করত। তারা উন্নত চিকিৎসা ও দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত।
অভিযানে আটক কয়েকজন স্বীকার করেছেন, রোগী নিয়ে গেলে তারা কমিশন পেতেন। প্রতিটি রোগীর বিপরীতে কেউ কেউ ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পেতেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও দালালদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরিশাল সফরে এসে জেলা শহরসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল এলাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে হাসপাতাল এলাকায় দালালদের তৎপরতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে প্রায়ই জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায়ই অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের সদস্যদের আটক, অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। তবে এসব দালালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক কিংবা তাদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, মালিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।