
তৌফিকুর রহমান তাহের,সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি:
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বেচ্ছাচারিতা এবং স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে বদলি হওয়ার পরও বহাল তবিয়তেই রয়ে গেলেন সুনামগঞ্জের বিতর্কিত অফিস সহকারী মো. মোফাজ্জল হোসেন মিলন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক আদেশে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বদলি করা হলেও, মাত্র তিন দিনের (৭২ ঘণ্টা) ব্যবধানে সেই আদেশ পরিবর্তন করে নিজ জেলা সুনামগঞ্জেরই পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পরও এত দ্রুত আদেশ পরিবর্তন হওয়ায় জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা; প্রশ্ন উঠেছে—কার “খুঁটির জোরে” এই অদলবদল?
অভিযোগ ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে কার্যালয়ে নিজস্ব প্রভাববলয় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে মিলনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির কর্মকর্তা না হয়েও রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও কোটেশন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি।
এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ১,৮০০ গাছের বরাদ্দে মাত্র ৯০০টি গাছ রোপণ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিটি গাছের জন্য ৫৩৩ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নামমাত্র খরচে কাজ শেষ করা হয়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ গেটে মানববন্ধন করে ‘জামালগঞ্জ সচেতন ফোরাম’। মানববন্ধনে হাসান আল মাসুম, সোহেল আহমদ ও সাব্বির রহমানসহ বক্তারা মিলনের দ্রুত অপসারণ ও আইনগত শাস্তির দাবি জানান।
তড়িঘড়ি বদলি ও অদৃশ্য ইশারায় রদবদল
মানববন্ধনের পরই গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল বারেক হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক আদেশে মিলনকে দূরবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বদলি করা হয়।কিন্তু রহস্যজনকভাবে মাত্র ৭২ ঘণ্টার মাথায়, ১৬ সেপ্টেম্বর নতুন আদেশে তাকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় পদায়ন করা হয়।
তাহিরপুর উন্নয়ন ফোরামের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কোনো কর্মচারীকে আমাদের উপজেলায় আমরা দেখতে চাই না। আমরা সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাই।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
অনিয়ম ও বদলির বিষয়ে অভিযুক্ত মোফাজ্জাল হোসেন মিলনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে বদলির বিষয়টি নাকচ করে দাবি করেন, “আমি ভোলাহাটে বদলি হইনি, তাহিরপুরেই আছি। আমি কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত নই, সরেজমিনে আসলেই গাছের সত্যতা মিলবে।”
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘অফিসের বাইরে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।