ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদে যোহরের পর মুসল্লিদের অভিযোগ—নামাজে বিঘ্নের আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনীঃ
চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী শহরের ঐতিহ্যবাহী ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদ-এ যোহরের নামাজের জামাত শেষে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর প্রায় ২টা ১৫ মিনিটে মসজিদের ভেতরে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য।
মসজিদের ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি ঘুমিয়ে থাকার কারণে অন্য মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত কয়েকজন মুসল্লি।
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, বিষয়টি অনেক সময় মসজিদের দায়িত্বশীলদের নজরে এলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। এতে করে মসজিদের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
📖 কোরআনের নির্দেশনা: মসজিদ আল্লাহর ঘর
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য; সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডাকো না।”
— (সূরা আল-জিন: ১৮)
ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মসজিদ এমন একটি স্থান যেখানে আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ বজায় রাখা মুসলমানদের দায়িত্ব।
আরও একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন—
فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ
অর্থ: “এসব ঘর (মসজিদ) আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করার জন্য।”
— (সূরা আন-নূর: ৩৬)
📜 হাদিসের শিক্ষা: অন্যকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
অর্থ: “মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।”
— সহিহ বুখারি
আরেকটি হাদিসে এসেছে—
إِنَّمَا بُنِيَتِ الْمَسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ
অর্থ: “মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্যের জন্যই—যা হলো আল্লাহর ইবাদত ও জিকির।”
— সহিহ মুসলিম
মুসল্লিদের বক্তব্যঃ
মসজিদে উপস্থিত এক মুসল্লি বলেন,
“মসজিদে কেউ অল্প সময় বিশ্রাম নিলে সমস্যা নেই। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় পুরো জায়গা জুড়ে ঘুমিয়ে থাকে। তখন অন্য মুসল্লিদের নামাজ পড়তে অসুবিধা হয়।”
আরেকজন মুসল্লি বলেন,
“মসজিদের পরিবেশ ঠিক রাখা সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে ইমাম ও কমিটির সদস্যরা একটু খেয়াল রাখলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
একজন প্রবীণ মুসল্লি জানান,
“ইসলামে মসজিদে বিশ্রাম নেওয়া নিষেধ নয়, তবে এমনভাবে থাকা উচিত যাতে অন্যের ইবাদতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।”
⚖️ ইসলামি দৃষ্টিতে করণীয়
ইসলামি আলেমদের মতে—
মসজিদে অস্থায়ীভাবে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম নয়
তবে তা এমনভাবে হতে হবে যাতে
মসজিদের পবিত্রতা বজায় থাকে
অন্য মুসল্লিদের নামাজে বাধা না সৃষ্টি হয়
মসজিদের শৃঙ্খলা নষ্ট না হয়
✅ উপসংহার:
ইসলাম মসজিদের মর্যাদা রক্ষা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
তাই মসজিদে অবস্থান করা বা বিশ্রাম নেওয়ার ক্ষেত্রেও এমন আচরণ করা প্রয়োজন যাতে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং মসজিদের পবিত্র পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।


















