ফেনীর কান্না কি শুনবেন প্রধানমন্ত্রী?” — নদীভাঙন, মামলা আর উন্নয়ন বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফের আবেগঘন খোলা চিঠি
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮০ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার ফেনী:
ফেনীর উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর প্রতি এক আবেগঘন খোলা চিঠি দিয়েছেন ফেনী সদর উপজেলার ৯নং লেমুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা, লেমুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলীয় আদর্শ ও সাধারণ মানুষের পক্ষে লেখালেখি করে আসা এই সাংবাদিক দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার সম্মুখীন হয়েছেন।
তার অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরদিন তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং গরুর খামার পুড়িয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। এ ঘটনায় তার জীবনের বহু স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।
নদীভাঙনে বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে হাজারো পরিবার
চিঠির প্রথম দাবিতে মোহাম্মদ হানিফ তুলে ধরেন লেমুয়া বাজার সংলগ্ন কালিদাস পাহাড়িয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনের চিত্র। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, ফসলি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন গৃহহীন হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।
তিনি জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। তার ভাষায়, “এভাবে চলতে থাকলে লেমুয়া বাজারের অস্তিত্বই একদিন হারিয়ে যাবে।”
খাসজমি দখলমুক্ত করে জনস্বার্থে ব্যবহারের আহ্বান
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি অভিযোগ করেন, লেমুয়া বাজারের সরকারি খাসজমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এসব জায়গা দখলমুক্ত করে স্কুল, হাসপাতাল, খেলার মাঠ বা জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশু হাসপাতাল: যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
লেমুয়া বাজার সংলগ্ন মা ও শিশু হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হানিফ। ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে চিকিৎসক ও রোগীরা আতঙ্কের মধ্যে সেবা নিচ্ছেন।
তিনি দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানান এবং বলেন, “একটি দুর্ঘটনা পুরো এলাকার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।”
৩০ বছর ধরে অচল ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র
চতুর্থ দাবিতে তিনি উল্লেখ করেন, বৃটিশ আমলে নির্মিত একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। লেমুয়া ও আশেপাশের প্রায় এক লাখ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আশ্রয়কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের দাবি জানান তিনি।
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি
পঞ্চম দাবিতে মোহাম্মদ হানিফ ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও তোলেন, যাতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
লালপোল বাইপাসে ফ্লাইওভার নির্মাণ: “একটি ফ্লাইওভার হাজারো মায়ের কান্না থামাতে পারে”
ষষ্ঠ দাবিতে তিনি ফেনী শহর থেকে চট্টগ্রাম-সোনাগাজী গামী লালপোল বাইপাস সড়কে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানান। তার মতে, এ সড়কে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
“একটি ফ্লাইওভার হাজারো মায়ের কান্না থামাতে পারে”— এমন আবেগঘন ভাষায় তিনি দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।
⚖️ বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের দাবি
শেষ দাবিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে লেমুয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নামে অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে, যা এখনো চলমান। তিনি এসব মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানি আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
“আমি ক্ষুদ্র কর্মী, কিন্তু মানুষের দাবি বড়”
চিঠির উপসংহারে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ বলেন,
“আমি একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমার নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবি তুলে ধরলাম। আশা করি, তিনি ফেনীর উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
তিনি তার আবেদনপত্রে নিজের নাম মোহাম্মদ হানিফ ও মোবাইল নম্বর ০১৮৯০১৫৩৩৪৭ সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ফেনীর সাধারণ মানুষের দাবি—এই খোলা চিঠি কি পৌঁছাবে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে? আর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নদীভাঙন, অবকাঠামোগত সংকট ও রাজনৈতিক হয়রানির অবসান কি এবার হবে?
এখন দেখার বিষয়—ফেনীর উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের এই আর্তনাদে সরকার কত দ্রুত সাড়া
























