
চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি,
একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের গাঁ গ্রাম থেকে নিজ যোগ্যতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ করার সুযোগ পেলেন হারুয়ালছড়ির তরুণ এইচ. এম. সাইফুদ্দীন। গ্রামের হাওয়া বাতাসের গন্ধ নিয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণের। খুব সাধারণ হতে তার এই উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নপূরণ, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে জ্বলবে। প্রত্যন্ত গ্রামের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে এমএ (মাস্টার্স) করার সুযোগ পেয়েছেন ফটিকছড়ির এই তরুণ। শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবারের চালিকা,রাজনীতি সবকিছু বুকে ধারণ করে তার ওঠে আসা। রাজনীতি জীবনে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
ব্যবসা জীবনে সেই কম্পিউটার ব্যবসার সাথে জড়িত। শিক্ষা জীবনে শিক্ষকতা ও বিভিন্ন মেধা বৃত্তির সাথে জড়িত। তার এই অর্জনে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এইচ. এম. সাইফুদ্দীন ফটিকছড়ির উত্তর হারুয়ালছড়ির ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভেরন্যপাড়া এলাকার নূর আহমদের দ্বিতীয় সন্তান। প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর এই সাফল্য এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে শিক্ষিত সমাজ মনে করেন। শৈশব থেকেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ নিয়ে শিক্ষা জীবন শুরু হয় হারুয়ালছড়ির মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর আজিমপুর তালিমুল কুরআন মাদরাসা থেকে নুরানি শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি নাজিরহাট বড় মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে তিনি কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষায় নিজেকে এগিয়ে নেন। ২০১৫ সালে হাটহাজারী থেকে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি আলিয়া ধারায় দাখিল ও আলিম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স এবং ২০১৯ সালে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাজিল সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালে কামিল (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন তিনি।
শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও সক্রিয় এইচ. এম. সাইফুদ্দীন। সেই শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সাংবাদিকতায় সেই দৈনিক নয়াবাংলা ও চাটগাঁর সংবাদ-এর ফটিকছড়ি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি উত্তর ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষা সহায়তার লক্ষ্যে পরিচালিত নূর মেধা বৃত্তি বোর্ডের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার স্বপ্ন আরও এগিয়ে যাওয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ করার সুযোগ পাওয়ায় তাঁর পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই তরুণ তাঁর উচ্চশিক্ষার পথচলা অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে নিজ এলাকা ও দেশের শিক্ষা, সমাজ ও মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এইচ. এম. সাইফুদ্দীনের শিক্ষাযাত্রা যেন প্রমাণ করে—সুযোগ সীমিত হলেও স্বপ্ন ও অধ্যবসায় থাকলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পৌঁছানো সম্ভব। পেশা,অর্থ বিত্ত বড় কিছু নই, মনের মনোবলই হল জীবন চলার পথে আসল শক্তি।