
মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার ফেনী।
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ, সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
স্ত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে সরকারি কর্মচারী কারাগারে, বিচারাধীন মামলা
২০ লাখ টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালানোর অভিযোগ: সরকারি কর্মচারী ও গৃহবধূর বিরুদ্ধে মামলা
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ওই সরকারি কর্মচারী আবদুল লতিফ এবং প্রবাসীর স্ত্রী মালেকা হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রাজভল্লবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে ফেনীর রামপুর মোল্লাবাড়ি এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী মোহাম্মদ মীর হোসেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলি আদালত, ফেনীতে একটি সিআর মামলা (নং-০০২৮২৮/২০২৬) দায়ের করেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, বিদেশে অবস্থানকালে সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এ সময় দাগনভূঞা উপজেলার পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবদুল লতিফের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি একাধিকবার সতর্ক করলেও সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। পরে ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয় এবং তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ বিকেলে মালেকা হোসেন তিন সন্তানকে রেখে আবদুল লতিফের সঙ্গে চলে যান। এ সময় তারা নগদ প্রায় ২০ লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলেও বাদী দাবি করেন।
এজাহার অনুযায়ী, আবদুল লতিফের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মধ্যম দাপুনিয়া কান্দাপাড়া এলাকায়। তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন দাগনভূঞা শাখায় অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপর আসামি মালেকা হোসেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রাজভল্লবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদীর স্ত্রী।
বাদীর দাবি, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আবদুল লতিফ গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া, অভিযুক্তকে সহায়তা করার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত আবদুল লতিফ, মালেকা হোসেন কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।