ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত চীনেডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গৌরবের ঐতিহ‍্যের ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্ত উৎসব বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ জন যশোরের পুলেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও দুই মেয়ে নিহত লোহাগাড়ায় দুর্ঘটনায় আহতদের পরিদর্শনে:উপদেষ্টা ফারুক ই আজম ও মেয়র শাহাদাত যশোরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে দুই শতাধিক অসুস্থের ঘটনায় বিক্রেতা আটক নীলফামারীতে ৩কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কালীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবককে হত্যা সুনামগঞ্জের শাল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি’র সংঘর্ষে আহত ৭জন কিষান মজদুর ইউনাইটেড একাডেমির ৬০ বছর পূর্তি সম্মিলন হীরক জয়ন্তী উদযাপন

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে এশীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫ ১৯ বার পড়া হয়েছে

চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার ও ফেরত আনতে এশিয়ার দেশগুলোকে একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীনের হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।
এশিয়ার বিশাল জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ৫৫ শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপির উৎস এই এশিয়া।

তিনি বলেন, “এক দশক আগের নীতিনির্ধারণের ধারণাগুলো এখন অপ্রাসঙ্গিক। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।”
২০০৭ সালে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে আলোচনা করতে বোয়াও ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা স্মরণ করে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবার তিনি এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছেন।
”আজ আমি এক ভিন্ন ভূমিকায় এখানে উপস্থিত হয়েছি, এমন এক বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে, যা গত বছরের জুলাই-অগাস্ট মাসে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে জনগণ দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

”আমাদের তরুণ ও সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের ভবিষ্যত পুনর্নির্মাণে অসাধারণ দৃঢ়তা ও শক্তি প্রদর্শন করেছে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। ”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছি। বিচারবিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, সিভিল প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশের একটি মৌলিক রূপান্তর ঘটবে।”
নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসবের অনেক কিছুই এশীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত ।
“বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের অস্থিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক টানাপড়েন, এবং বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাগুলো আমাদের এই উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। সুদের হার বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের উচ্চ ব্যয় এশিয়ার ঋণ সংকটকে আরো গভীর করছে।”
২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টি তুলে ধরে ইউনূস বলেন, ”টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মাত্র ২৪% লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। উন্নয়নশীল এশীয় দেশগুলোর জন্য এসডিজি অর্থায়নের ২.৫ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি রয়েছে। এসডিজি অর্থায়নের বাইরেও এশিয়ায় দায়িত্বশীল অর্থায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের জন্য বড় আকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।”
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা যে কঠিন হয়ে উঠেছে, সে কথা তুলে ধরে তিনি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হলে মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ঋণসংকট বাড়ে। টেকসই জ্বালানি সমাধান খুঁজে বের করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য।”
প্রধান উপদেষ্টার মতে, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে। এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আর মানব সভ্যতার সহনশীলতা ও সৃজনশীলতা বিভিন্ন দিকও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
তিনি বলেন, ”ভাষা, ঐতিহ্য, দর্শন ও রীতিনীতির সমৃদ্ধ মিশ্রণ এই অঞ্চলের শক্তি। ইসলাম, কনফুসিয়ানিজম, বৌদ্ধধর্ম ও হিন্দুধর্মসহ বিভিন্ন দার্শনিক ধারা নৈতিকতা, শাসনব্যবস্থা ও মানবিক মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
”এশিয়ার জনসংখ্যায় যুবা বয়সীদের প্রাধান্য এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান যুব জনসংখ্যা উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতার চালিকাশক্তি হতে পারে। তারা যাতে উদ্যোক্তা হতে পারে এবং সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে, সেজন্য অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে মানবসম্পদে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক চাকরির বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।”
নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন এশিয়ার উন্নয়নের জন্য ‘অপরিহার্য’ মন্তব্য করে ইউনূস বলেন, “এশিয়ায় এখনো নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম, এবং নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে হলে নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
বর্তমান বৈশ্বিক সংকটগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে মানবাধিকার সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং অর্থনীতিকে বিঘ্নিত করছে বলে মত দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সংকট শুধু আরব বা মুসলিমদের সমস্যা নয়, এটি মানবতার সংকট। ইউক্রেন যুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, আর মিয়ানমারের চলমান সংকট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
সাত বছরের বেশি সময় ধরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার কারণে বাংলাদেশ যে ক্রমাগত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপে পড়ছে, সে কথাও বলেন ড. ইউনূস।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এশিয়ার দেশগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা এশিয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে চারটি মূল ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান। সেগুলো হল আর্থিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সহযোগিতা, খাদ্য ও কৃষি সহযোগিতা, এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা।
তিনি বিশেষভাবে বোয়াও ফোরাম এবং এশিয়ার অন্যান্য উদ্যোগে তরুণ ও উদ্যোক্তাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
ইউনূস বলেন, ”আমরা সবাই মিলে এমন একটি এশিয়া গড়ে তুলতে পারি, যেখানে টেকসই উন্নয়ন, সমবণ্টিত সমৃদ্ধি, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমি এই প্লাটফর্মটি তৈরী করেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের কন্ঠস্বর হিসাবে পরিচালিত করার জন্য।আমরা অবিরত থাকবো সততা নিয়ে সত্যের সাথে। দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র পত্রিকা এ দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত গনমানুষের কথা বলবে এবং সত্য প্রকাশে থাকবে আপোষহীন।
ট্যাগস :

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে এশীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে

আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার ও ফেরত আনতে এশিয়ার দেশগুলোকে একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীনের হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।
এশিয়ার বিশাল জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ৫৫ শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপির উৎস এই এশিয়া।

তিনি বলেন, “এক দশক আগের নীতিনির্ধারণের ধারণাগুলো এখন অপ্রাসঙ্গিক। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।”
২০০৭ সালে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে আলোচনা করতে বোয়াও ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা স্মরণ করে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবার তিনি এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছেন।
”আজ আমি এক ভিন্ন ভূমিকায় এখানে উপস্থিত হয়েছি, এমন এক বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে, যা গত বছরের জুলাই-অগাস্ট মাসে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে জনগণ দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

”আমাদের তরুণ ও সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের ভবিষ্যত পুনর্নির্মাণে অসাধারণ দৃঢ়তা ও শক্তি প্রদর্শন করেছে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। ”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছি। বিচারবিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, সিভিল প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশের একটি মৌলিক রূপান্তর ঘটবে।”
নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসবের অনেক কিছুই এশীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত ।
“বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের অস্থিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক টানাপড়েন, এবং বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাগুলো আমাদের এই উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। সুদের হার বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের উচ্চ ব্যয় এশিয়ার ঋণ সংকটকে আরো গভীর করছে।”
২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টি তুলে ধরে ইউনূস বলেন, ”টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মাত্র ২৪% লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। উন্নয়নশীল এশীয় দেশগুলোর জন্য এসডিজি অর্থায়নের ২.৫ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি রয়েছে। এসডিজি অর্থায়নের বাইরেও এশিয়ায় দায়িত্বশীল অর্থায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের জন্য বড় আকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।”
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা যে কঠিন হয়ে উঠেছে, সে কথা তুলে ধরে তিনি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হলে মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ঋণসংকট বাড়ে। টেকসই জ্বালানি সমাধান খুঁজে বের করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য।”
প্রধান উপদেষ্টার মতে, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে। এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আর মানব সভ্যতার সহনশীলতা ও সৃজনশীলতা বিভিন্ন দিকও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
তিনি বলেন, ”ভাষা, ঐতিহ্য, দর্শন ও রীতিনীতির সমৃদ্ধ মিশ্রণ এই অঞ্চলের শক্তি। ইসলাম, কনফুসিয়ানিজম, বৌদ্ধধর্ম ও হিন্দুধর্মসহ বিভিন্ন দার্শনিক ধারা নৈতিকতা, শাসনব্যবস্থা ও মানবিক মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
”এশিয়ার জনসংখ্যায় যুবা বয়সীদের প্রাধান্য এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান যুব জনসংখ্যা উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতার চালিকাশক্তি হতে পারে। তারা যাতে উদ্যোক্তা হতে পারে এবং সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে, সেজন্য অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে মানবসম্পদে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক চাকরির বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।”
নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন এশিয়ার উন্নয়নের জন্য ‘অপরিহার্য’ মন্তব্য করে ইউনূস বলেন, “এশিয়ায় এখনো নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম, এবং নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে হলে নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
বর্তমান বৈশ্বিক সংকটগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে মানবাধিকার সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং অর্থনীতিকে বিঘ্নিত করছে বলে মত দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সংকট শুধু আরব বা মুসলিমদের সমস্যা নয়, এটি মানবতার সংকট। ইউক্রেন যুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, আর মিয়ানমারের চলমান সংকট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
সাত বছরের বেশি সময় ধরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার কারণে বাংলাদেশ যে ক্রমাগত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপে পড়ছে, সে কথাও বলেন ড. ইউনূস।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এশিয়ার দেশগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা এশিয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে চারটি মূল ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান। সেগুলো হল আর্থিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সহযোগিতা, খাদ্য ও কৃষি সহযোগিতা, এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা।
তিনি বিশেষভাবে বোয়াও ফোরাম এবং এশিয়ার অন্যান্য উদ্যোগে তরুণ ও উদ্যোক্তাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
ইউনূস বলেন, ”আমরা সবাই মিলে এমন একটি এশিয়া গড়ে তুলতে পারি, যেখানে টেকসই উন্নয়ন, সমবণ্টিত সমৃদ্ধি, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।”