নুরানী মাদরাসা পরিচালনায় আইন না মানার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী:
বাংলাদেশের সংবিধান ও শ্রম আইনের আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও সোনাগাজী উপজেলার কিছু নুরানী মাদরাসায় তা মানা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু নুরানী মাদরাসার মোহতামিমরা একদিকে রাষ্ট্রীয় আইন ও সংবিধান মানছেন না, অন্যদিকে যে নুরানী তালিমুল কোরআন বোর্ডের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন, সেই বোর্ডের নিজস্ব বিধি-বিধানও অনুসরণ করছেন না।
সংবিধান বনাম বোর্ড—কার আওতায় নুরানী মাদরাসা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পরিচালিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সরকারি হোক বা বেসরকারি—রাষ্ট্রের সংবিধানের বাইরে নয়। সংবিধানের ২০ ও ২৩ অনুচ্ছেদে শ্রমের মর্যাদা এবং সংস্কৃতি ও শিক্ষার বিকাশের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেই হিসেবে নুরানী মাদরাসাও মৌলিক মানবিক ও শ্রমিক অধিকারের আওতাভুক্ত।
অন্যদিকে, নুরানী তালিমুল কোরআন বোর্ড একটি বেসরকারি শিক্ষা বোর্ড হিসেবে পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা ও কিছু প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। তবে বোর্ডের কোনো নিয়মই সংবিধান বা রাষ্ট্রীয় আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনে মাদরাসা খোলা রাখার অভিযোগ
স্থানীয় একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি (শহীদ দিবস), ২৬শে মার্চ (স্বাধীনতা দিবস), ১৬ই ডিসেম্বর (বিজয় দিবস)সহ সরকার ঘোষিত জাতীয় ছুটির দিনগুলোতে কিছু নুরানী মাদরাসায় কোনো ছুটি দেওয়া হয় না।
একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“ছুটি চাইলে মোহতামিমরা বলেন—মাদরাসার হুজুরদের বেতন কে দেয়? সরকার দেয় না, বোর্ড দেয় না, আমি দেই। তাই আমার নিয়মেই চলতে হবে।”
শিক্ষকরা বলছেন—এটা কি জুলুম নয়?
শিক্ষকদের দাবি, বেতন ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হলেও তারা নিয়মিত পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাষ্ট্রীয় ছুটি, সাপ্তাহিক বিশ্রাম ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
একজন শিক্ষকের ভাষায়,
“আমরা দ্বীনের খেদমত করি, কিন্তু দ্বীনের নামে আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে সেটা তো ইসলামও সমর্থন করে না।”
বোর্ডের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে
এ বিষয়ে নুরানী তালিমুল কোরআন বোর্ডের দায়িত্বশীলদের কার্যকর নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, বোর্ডের নাম ব্যবহার করে কিছু মোহতামিম ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান চালালেও শিক্ষক নির্যাতন বা নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সচেতন মহলের মতামত
শিক্ষাবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,
নুরানী মাদরাসা পরিচালনায় লিখিত নীতিমালা বাধ্যতামূলক করা
রাষ্ট্রীয় ছুটি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি
বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষক অভিযোগ নিষ্পত্তি সেল চালু করা
এগুলো এখন সময়ের দাবি।
উপসংহার
দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানেই আইন ও সংবিধানের বাইরে—এই ধারণা ভুল ও বিপজ্জনক বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। নুরানী মাদরাসা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, তা হতে হবে আইন, মানবিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে—এটাই এখন শিক্ষকদের জোর দাবি।



















