
প্রতিবেদন: নবাব, রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)
জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (NILG) কর্তৃক পরিচালিত গ্রাম পুলিশের এই ৩০ দিনব্যাপী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণটি মূলত সারাদেশের বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। , বর্তমান ব্যাচে যে ৬টি থানার নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে,
কিশোরগঞ্জ থানার অধীনে থাকা ৯টি ইউনিয়ন থেকে বাছাইকৃত ৪০ জন গ্রাম পুলিশকে নিয়ে এই ৩০ দিনের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে
১. বড়ভিটা ইউনিয়ন: ৫ জন
২. বাহাগিলী ইউনিয়ন: ৪ জন
৩. কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন: ৫ জন
৪. পুটিমারী ইউনিয়ন: ৪ জন
৫. চাঁদখানা ইউনিয়ন: ৫ জন
৬. গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন: ৪ জন
৭. মাগুড়া ইউনিয়ন: ৫ জন
৮. রণচণ্ডী ইউনিয়ন: ৪ জন
৯. নিতাই ইউনিয়ন: ৪ জন
সর্বমোট: ৪০ জন
১. কিশোরগঞ্জ নীলফামারী
২. কুমারখালী কুষ্টিয়া
৩. কুলাউড়া মৌলভীবাজার
৪. পবা রাজশাহী
৫. গোপালগঞ্জ সদর গোপালগঞ্জ
৬. সোনারগাঁ নারায়ণগঞ্জ
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের কিছু চিত্র নিচে দেওয়া হল।

৩০ দিনব্যাপী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের আওতাভুক্ত ৬টি থানা
১. কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে এখানে গ্রাম পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
২. কুমারখালী (কুষ্টিয়া): এই থানায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের প্রশাসনিক জ্ঞান এবং শৃঙ্খলার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ চলছে।
৩. কুলাউড়া (মৌলভীবাজার): জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এখানে গ্রাম পুলিশদের আইনি অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
৪. পবা (রাজশাহী): বিভাগীয় শহর সংলগ্ন হওয়ায় পবা থানার গ্রাম পুলিশদের আধুনিক অপরাধ দমনে বিশেষ পারদর্শী করে তোলা হচ্ছে।
৫. গোপালগঞ্জ সদর (গোপালগঞ্জ): এখানে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশদের ডিজিটাল ডেটাবেজ ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে দক্ষ করা হচ্ছে।
৬. সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ): শিল্প এলাকা ও পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার গ্রাম পুলিশদের বিশেষ নিরাপত্তা ও ভিভিআইপি মুভমেন্টের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
এই ৬টি থানায় প্রশিক্ষণের বিশেষ ৫টি কারণ:
• তৃণমূলের গোয়েন্দা হিসেবে গড়ে তোলা: গ্রাম পুলিশ সদস্যরা যেন গ্রামের ছোটখাটো তথ্য দ্রুত থানায় পৌঁছাতে পারেন, সেই দক্ষতা বাড়ানো।
• আইনি জ্ঞান প্রদান: অনেক সময় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাদের আইনি ক্ষমতা সম্পর্কে জানেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির সাধারণ ধারা এবং গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত প্রাথমিক নিয়মগুলো তাদের শেখানো হচ্ছে।
• বাল্যবিবাহ ও মাদক নির্মূল: গ্রামের সামাজিক ব্যাধিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা রাখার জন্য তাদের প্রস্তুত করা।
• প্রশাসনিক সমন্বয়: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশের সাথে যেন তারা একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারেন, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া।
• পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা: ৩০ দিনের এই দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ড্রেস কোড, কুচকাওয়াজ (প্যারেড) এবং নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে যাতে তারা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে।
প্রশিক্ষিত বাহিনী যখন প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ ইউনিয়নে ফিরে যাবে, তখন গ্রামীণ জনপদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের প্রতিটি পদক্ষেপে সদস্যদের চোখে-মুখে ছিল দক্ষতা অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা। তারা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের কেবল পাহারাদার হিসেবে নয়, বরং সরকারের একজন দায়িত্বশীল মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করার আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।