
মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী:
প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ; মামলা প্রক্রিয়াধীন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী
ফেনী সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধলিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতপুর গ্রামে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
জানা গেছে, নিজ বাড়ির পুরনো ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করলে অভিযুক্ত আবদুর রাজ্জাক, সাহাব উদ্দিনের ছেলে মুহিব ফারহানসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে তারা ইব্রাহিমের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে নির্মাণ কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী ইব্রাহিম বলেন, “নিজের জায়গায় ঘর তুলতে গিয়ে এমন বাধার মুখে পড়ব ভাবিনি। তারা সরাসরি কাজ বন্ধ করে দিয়ে টাকা দাবি করেছে। এখন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ ঘটনায় তিনি একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল কাশেমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আবুল কাশেম বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেনী মডেল থানার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মুহিব ফারহান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের আরও দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ওই চক্রটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। অতীতে এক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তারা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। প্রতিনিয়ত মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।