
জি এম আব্বাস উদ্দিন (সাতক্ষীরা) জেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন আর ফাঁকা পড়ে থাকে না গাইনি ওয়ার্ড। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকে প্রসূতি মা ও নারী রোগীদের। হাসপাতালটির এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন গাইনি কনসালটেন্ট ডা. অনন্যা রানী।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে আউটডোরে মহিলা রোগীদের সারিবদ্ধ ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিচ্ছে।বর্তমানে নিয়মিত হচ্ছে নরমাল ডেলিভারি, এএনসি ও পিএনসি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং জরায়ু ও স্ত্রীরোগের প্রাথমিক চিকিৎসা। আগে যেখানে সামান্য সমস্যাতেই রোগীদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হতো, এখন বেশিরভাগ সেবা মিলছে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
চিকিৎসা নিতে আসা পারুলিয়া গ্রামের গৃহবধূ সুমি খাতুন বলেন,আগে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হতো অনেক টাকা খরচ করে। এখন আপা (অনন্যা রানী) খুব যত্ন নিয়ে দেখেন, ব্যবহারও খুব ভালো। হাসপাতালে ওষুধও পাচ্ছি।
এ বিষয়ে গাইনি কনসালটেন্ট ডা. অনন্যা রানী বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি মাকে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা দিতে। উপজেলা পর্যায়ে মায়েদের সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি। নিয়মিত চেকআপ করলে অনেক জটিলতা আগে থেকেই এড়ানো সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড.সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট অনেকটাই কেটেছে। গাইনি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে নিয়মিত সেবা চলছে। রোগীর সংখ্যা গত ৬ মাসে দ্বিগুণ বেড়েছে। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ওষুধ সরবরাহও আগের চেয়ে ভালো।
স্থানীয়রা ও হাসপাতালের সেবা নিতে আসা মায়েরা বলছেন, ডা. অনন্যা রানীর মতো আন্তরিক চিকিৎসক থাকলে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।