
স্টাফ রিপোর্টার, তৌফিকুর রহমান তাহের:সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর ১ ও ২ নম্বর বালুমহালের আনুষ্ঠানিক দখল বুঝে পেয়েছে ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স তাহিয়া এন্টারপ্রাইজ’।
প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর বালুমহাল দুটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় লাখো শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর মধ্যে। নদীকে ঘিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ ফিরে পাওয়ায় পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের আমেজ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিনে সীমানা নির্ধারণ ও মাপজোখের মাধ্যমে ইজারাদারের হাতে বালুমহাল দুটির দখল হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন।
হস্তান্তরকালে তাহিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিজিবি সদস্য, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করে জানান, বালুমহাল চালু হওয়ায় নদীর ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার পথ খুলবে এবং স্থবির হয়ে পড়া স্থানীয় অর্থনীতি আবার গতি পাবে। টানা দেড় মাস বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছিলেন সাধারণ শ্রমিকেরা।
তবে পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসন জানায়, বালু উত্তোলন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে ইজারার প্রতিটি শর্ত, সরকারি নির্দেশনা এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী এবং বালুমহালের ইজারাদার নাসির মিয়া দখল হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউএনও মিস রিপামনি দেবী বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যে আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের ইজারা পেয়েছেন মেসার্স তাহিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাসির মিয়া। ইজারার শর্ত মেনে সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল (হাতে চালিত) পদ্ধতিতে বালু তুলতে হবে।
তবে নদীর তীর বা পাড় কেটে বালু তোলার বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
কোনো অবস্থাতেই নদীর পাড় কাটা বরদাশত করা হবে না।