
ঠাকুরগাঁও-১(সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছে।
মো:রবিউল ইসলাম পীরগন্জ উপজেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও : বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা শেষে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ) রাত সাড়ে ৯টায় ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, মির্জা ফয়সল আমীন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেনের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৯ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ প্রতীকে ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে ৪৫০ ভোট পেয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩০টি। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩২৫টি ভোট বাতিল হয়েছে। ভোট প্রদানের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।
আসনটির ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রেই বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফল একত্র করে রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাকুর রহমান, এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-১ দিনাজপুরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলেও তাঁরা জানান।
উল্লেখ্য, ঘোষিত ফলাফল বেসরকারি। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর বিজয়ী প্রার্থীর ফলাফল চূড়ান্ত হবে।
ভোটগ্রহণের দিন আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না, যা উদ্বেগজনক। তিনি ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছিলেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪০৫ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এছাড়া ৪ বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয় এবং প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ দিয়ে নির্বাচনী নীতিমালা অমান্য করায় এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।অন্যদিকে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন,এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি।পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এজেন্টদের বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে।