
রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঝিনাইদহে জমিয়তে জাকিরিন ও মোজাদ্দেদ মিশনের যৌথ উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস (আনন্দ র্যালি) ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের নানা প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে হাতে জশনে জুলুসের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড নিয়ে শত শত মানুষ এই আনন্দ র্যালিতে অংশ গ্রহন করেন। বর্ণাঢ্য র্যালিটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হাসান মাহমুদ বলেন, পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদযাপন কেবল কোনো প্রথাগত বা সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি সুন্নতে ইলাহী, সুন্নতে আম্বিয়া, সুন্নতে রাসুল ও সুন্নতে আওলিয়া। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ নেয়ামত এবং রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) এঁর পবিত্র ধরণীতে আগমন উপলক্ষে ভক্তিভরে শোকরগুজারি করা সর্বস্তরের মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, স্বয়ং আল্লাহ পাক কুরআন পাকে বিশ্বনবীর শান ও আগমনকে মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সূরা আল-আম্বিয়ায় মহান আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় এরশাদ করেছেন যে, আখেরি নবীকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সূরা ইউনুসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ প্রাপ্তিতে বান্দার আনন্দ প্রকাশ করা উচিত। ফলে তামাম কুলকায়েনাতের শ্রেষ্ঠ নেয়ামত নবী পাকের শুভ আগমনে আনন্দ ও শোকরগুজারি প্রকাশ করা মূলত সরাসরি কুরআনের নির্দেশ ও সুন্নতে ইলাহীরই অংশ। কাজেই মিলাদুন্নবীর বিরোধীতা করা মানেই আল্লাহ পাকের বিরোধীতা করা।
মাওলানা মাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রিয় নবীজির আগমন ও শুভ মিলাদের বার্তা প্রচার করা পূর্ববর্তী তামাম আম্বিয়া-ই-কেরামের সুন্নাত। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রাঞ্জল দোয়ায় এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর ঐতিহাসিক বাণীতে আখেরি নবীর আগমনের সুসংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে। কওমের কাছে শেষ নবীর আগমনের মোবারক বার্তা পৌঁছে দিয়ে পূর্ববর্তী সব নবী-রাসুলগণ মিলাদুন্নবীর সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গেছেন।
মাওলানা আনোয়ার হোসেন বলেন, কেবল পূর্ববর্তী আম্বিয়াগণই নন, রাসুল পাক (সা.) নিজেও নিজ জন্মদিন উপলক্ষ্যে রোজা পালনের মাধ্যমে এই সুন্নাত বাস্তবায়ন করেছেন। সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, প্রতি সোমবার রোজা রাখার কারণ জানতে চাওয়া হলে প্রিয় নবীজি (সা.) এরশাদ করেছিলেন যে এই দিনেই তিনি ধরণীতে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলাম এবং এই দিনেই আমার ওপর কুরআন পাক নাজিল হয়েছিল। পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরামের যুগেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপস্থিতিতেই মিম্বারে দাঁড়িয়ে তাঁর শুভ আগমন ও প্রশস্তি বর্ণনা করে কবিতা পাঠের ভক্তিপূর্ণ প্রচলন দেখা গেছে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা আল মাহাদি লিপইয়ার, মাওলানা মাজেদুল ইসলাম, মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, হাফেজ মোঃ ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ সিয়াম খোকা, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সাত্তার।
এছাড়াও ফুরফুরা সিলসিলার ভক্ত ও আশেকানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস এম বিল্লাহ রিন্টু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিক আহমাদ, জাহাঙ্গীর কবির তুহিন, রেজাউল ইসলাম ও ফরিদ হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন মাওলানা হাসান মাহমুদ। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে শহর জুড়ে মিষ্টি, খেজুর ও পানি বিতরণ করা হয়। এছাড়া জমিয়তে জাকিরিন ও মোজাদ্দেদ মিশনের উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করা হয়।