
নিজস্ব প্রতিবেদক, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা):চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শাকের আলী নামে এক ইজিবাইক চালককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে জীবননগর মিশুক ও ইজিবাইক চালক ও মালিক সমিতি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।
শাকের আলী জীবননগর উপজেলার সদরপাড়া এলাকার মিন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি ফল ব্যবসায়ীদের শ্রমিক ও মালামাল পরিবহনের কাজ করেন বলে জানিয়েছে সমিতি।
সমিতির সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় এলাকা থেকে ফল ব্যবসায়ীর শ্রমিকদের নিয়ে জীবননগরের দিকে ফিরছিলেন শাকের আলী। পথে কুসুমপুর বিজিবি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাঁর ইজিবাইক থামানোর নির্দেশ দেন। পরে গাড়ির পেছনের ওপরের অংশের ঢাকনা তল্লাশি করে চার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। এ সময় ইজিবাইকে থাকা অন্য যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও চালক শাকের আলী ও তাঁর ইজিবাইকটি আটক করে মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, একই গ্রামের আজাদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে শাকের আলীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তাঁর ইজিবাইকে ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে তাঁকে আটক করানো হয় বলে দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান হোসেন জানান, গতকাল বিজিবি একজন আসামিকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত আজাদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
জীবননগর মিশুক ও ইজিবাইক চালক ও মালিক সমিতির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে শাকের আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।