
জবি প্রতিনিধিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)-এর মরহুমা মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, পৃথিবীতে কেউই স্থায়ী নয়। মহান আল্লাহ জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য। তাই আখেরাতের জীবনের জন্য সবাইকে সৎকর্মের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য হলো, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। আজ আমাদের পরিবারের একজন সদস্য রুমি তার মাকে হারিয়েছেন। তার মায়ের জন্য আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই পারিবারিক বন্ধনেরই বহিঃপ্রকাশ।”
উপাচার্য আরও বলেন, “যাদের বাবা-মা জীবিত আছেন, তারা এই নেয়ামতের মূল্য দিন। বাবা-মাকে হারানোর পর আফসোসের কোনো শেষ থাকে না। আল্লাহর সন্তুষ্টির পর বাবা-মায়ের সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।'”
মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। পাশাপাশি আমরা যারা বাবা-মাকে হারিয়েছি, আল্লাহ যেন তাদের সবাইকেও জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।”
এ সময় আবেগঘন বক্তব্যে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি) বলেন, “গত ১৫ তারিখে আমার মা মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। মায়ের দোয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। দীর্ঘ দুঃসময়ে রাজনীতির পথচলায় আমার মায়ের দোয়া আমাকে সাহস জুগিয়েছে।”
তিনি বলেন, “ছেলে হিসেবে মায়ের জন্য যতটুকু করা উচিত ছিল, ততটুকু করতে পারিনি। এই কষ্ট ও আফসোস সারাজীবন বহন করতে হবে। আজ যারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করতে এসেছেন, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনারা সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন এবং তার কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করে দেন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি কে এম শাখাওয়াত হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেতসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।