
রাকিব মাহী, জবি প্রতিনিধিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তার পদত্যাগ এখনো গৃহীত হয়নি বলে জানিয়েছেন জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।
সোমবার (৪ মে) পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নাঈম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। ক্যাম্পাসে এলেই ঘটনার স্মৃতি তাকে কষ্ট দেয়। তিনি বলেন, “প্রকৃতির বিচার আছে। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমার বিচার ছেড়ে দিলাম।”
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলীকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘোষণা দিলেও প্রশাসন তা কার্যকর করেনি। তার ভাষায়, “সাময়িক বহিষ্কার করা হলে কেউ কীভাবে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেয়? এটা কি শুধুই আইওয়াশ?”
এর আগে, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এমনকি উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ঘোষণা দেন। কিন্তু পরদিনই অভিযুক্তকে ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন নাঈম।
এদিকে, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো পদত্যাগের খবরটি পুরোপুরি সঠিক নয়। নাঈম একটি আবেদন জমা দিয়েছেন, তবে সেটি এখনো অনুমোদন করা হয়নি।” তিনি আরও জানান, নাঈম এখনো ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল জবির অষ্টম ইনডোর গেমসের ক্যারম ফাইনালকে কেন্দ্র করে নাঈমকে চড় মারেন নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানি হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের পরাজিত জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলী।
পরবর্তীতে ৩ মে অভিযুক্ত নেলীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও পরদিন তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা যায়, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা ফেসবুকে লেখেন, “ক্রীড়া সম্পাদকের ঘটনায় নেলীকে বহিষ্কার করা হলো, অথচ আজ তার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আর কত নাটক দেখাবে জবি প্রশাসন!”