ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জের শাল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি’র সংঘর্ষে আহত ৭জন কিষান মজদুর ইউনাইটেড একাডেমির ৬০ বছর পূর্তি সম্মিলন হীরক জয়ন্তী উদযাপন পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাইলে তাদের প্রতি শুভকামনা নেই: ছাত্রদল সভাপতি রাউজানে মা ভাই ও বোনের হাতে খুন প্রকৌশলী কালীগঞ্জে দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনমিলনী অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভাঙন শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের ১৫৪ তম শুভ আবির্ভাব স্মরণোৎসব উদযাপিত গোপালগঞ্জে ফকির বংশের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২৫ আলমডাঙ্গায় কুখ্যাত মাদক সম্রাগী মিনি বেগম পুলিশের কাছে গ্রেফতার সময়ের সাথেসাথে ঈদের হাসিখুশির পরিবর্তন

চুয়াডাঙ্গায় হাসপাতালের মেঝেতেও ঠাঁই মিলছে না রোগীর

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:-
আবহাওয়াজনিত কারণে চুয়াডাঙ্গায় অধিকাংশ ঘরে ঘরে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তিন থেকে সাত দিন জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে। জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বয়স্কের সংখ্যায় বেশি।জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়েছে সদর হাসপাতালেও। দুই মেডিসিন ওয়ার্ডে তিল পরিমান জায়গা নেই। মেঝেতেও ঠাঁই মিলছে না রোগীর। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। শুরু জ্বরই নয়, জ্বরের সাথে কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীরাও আসছেন প্রতিনিয়ত।এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে শুধুমাত্র ৪০০-৫০০ রোগী জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন।চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত জ্বর। বৃষ্টির কারণে কিছুটা ঠান্ডা আবার বাইরে গরম; তাই এই সময় সাবধান থাকতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড সুত্রে জানা যায়, গত তিন দিনে অর্থাৎ ৭ জুলাই থেকে ১০জুলাই বেলা ৩টা পর্যন্ত দুটি ওয়ার্ডে মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৪৫ জন রোগী। এরমধ্যে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ৪৬টি এবং কেবিন ৩টি। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ৬৫টি এবং কেবিন ২টি। এর বিপরীতে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬০ জন এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৮৫ জন ভর্তি হয়েছেন গত তিনদিনে। যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুন রোগী ভর্তি আছেন এই দুই ওয়ার্ডে। এরমধ্যে ৮০ শতাংশই জ্বরে আক্রান্ত রোগী।এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার দুই ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, মেঝেছে বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিল পরিমান জায়গা নেই। ৮০ শতাংশ রোগী জ্বরে আক্রান্ত। এরমধ্যে বয়োবৃদ্ধদের সংখ্যায় বেশি। এছাড়া, জ্বরের সাথে কাশি, শ্বাসকষ্ট, হার্টসহ বিভিন্নজনিত রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। একদিকে রোগীদের চাপ, অপরদিকে ভ্যাপসা গরমে রোগী ও স্বজনদের হাসফাঁস অবস্থা। এছাড়া চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসক।মোনোয়ারা বেগম নামের এক নারী সাংবাদিকদের কে বলেন, তিন দিন যাবত জ্বরে আক্রান্ত আমার মাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। ওয়ার্ডে রোগীদের প্রচণ্ড চাপ। কোন জায়গা নেই। এর আগে আমি কখনো এতো রোগীর চাপ দেখেনি এই ওয়ার্ডে
পারভিন আক্তার নামে অপর এক নারী সাংবাদিকদের কে বলেন, চারদিন আগে আমার শাশুড়ি ঠাণ্ড-জ্বর-শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার ভর্তি করিয়ে দেন। তবে রোগীদের চাপ বেশি থাকলেও চিকিৎসক-নার্সদের সেবা দেয়া কোন ব্যাহত হচ্ছেনা। তাদেরকে ডাকার সাথে সাথে এসে সেবা দিচ্ছেন।কর্তব্যরত নার্সরা আগামী দর্পণকে জানান, ওয়ার্ডে জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্নজনিত আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। সব থেকে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাটাই বেশি। ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীদের চাপ বেশি হলেও সেবা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন আগামী দর্পণকে বলেন, হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ। ধারণ ক্ষমতার থেকে প্রায় দ্বিগুন রোগী আছে বর্তমানে। বেশির ভাগ রোগীই ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে কিছুটা ঠান্ডা আবার বাইরে গরম, আর এই আবহাওয়াজনিত কারণেই জ্বর হচ্ছে প্রায় মানুষের। এই সময়টাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন জ্বর-কাশি আক্রান্ত হয়েছে ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমি এই প্লাটফর্মটি তৈরী করেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের কন্ঠস্বর হিসাবে পরিচালিত করার জন্য।আমরা অবিরত থাকবো সততা নিয়ে সত্যের সাথে। দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র পত্রিকা এ দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত গনমানুষের কথা বলবে এবং সত্য প্রকাশে থাকবে আপোষহীন।
ট্যাগস :

চুয়াডাঙ্গায় হাসপাতালের মেঝেতেও ঠাঁই মিলছে না রোগীর

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:-
আবহাওয়াজনিত কারণে চুয়াডাঙ্গায় অধিকাংশ ঘরে ঘরে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তিন থেকে সাত দিন জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে। জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বয়স্কের সংখ্যায় বেশি।জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়েছে সদর হাসপাতালেও। দুই মেডিসিন ওয়ার্ডে তিল পরিমান জায়গা নেই। মেঝেতেও ঠাঁই মিলছে না রোগীর। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। শুরু জ্বরই নয়, জ্বরের সাথে কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীরাও আসছেন প্রতিনিয়ত।এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে শুধুমাত্র ৪০০-৫০০ রোগী জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন।চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত জ্বর। বৃষ্টির কারণে কিছুটা ঠান্ডা আবার বাইরে গরম; তাই এই সময় সাবধান থাকতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড সুত্রে জানা যায়, গত তিন দিনে অর্থাৎ ৭ জুলাই থেকে ১০জুলাই বেলা ৩টা পর্যন্ত দুটি ওয়ার্ডে মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৪৫ জন রোগী। এরমধ্যে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ৪৬টি এবং কেবিন ৩টি। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ৬৫টি এবং কেবিন ২টি। এর বিপরীতে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬০ জন এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৮৫ জন ভর্তি হয়েছেন গত তিনদিনে। যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুন রোগী ভর্তি আছেন এই দুই ওয়ার্ডে। এরমধ্যে ৮০ শতাংশই জ্বরে আক্রান্ত রোগী।এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার দুই ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, মেঝেছে বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিল পরিমান জায়গা নেই। ৮০ শতাংশ রোগী জ্বরে আক্রান্ত। এরমধ্যে বয়োবৃদ্ধদের সংখ্যায় বেশি। এছাড়া, জ্বরের সাথে কাশি, শ্বাসকষ্ট, হার্টসহ বিভিন্নজনিত রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। একদিকে রোগীদের চাপ, অপরদিকে ভ্যাপসা গরমে রোগী ও স্বজনদের হাসফাঁস অবস্থা। এছাড়া চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসক।মোনোয়ারা বেগম নামের এক নারী সাংবাদিকদের কে বলেন, তিন দিন যাবত জ্বরে আক্রান্ত আমার মাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। ওয়ার্ডে রোগীদের প্রচণ্ড চাপ। কোন জায়গা নেই। এর আগে আমি কখনো এতো রোগীর চাপ দেখেনি এই ওয়ার্ডে
পারভিন আক্তার নামে অপর এক নারী সাংবাদিকদের কে বলেন, চারদিন আগে আমার শাশুড়ি ঠাণ্ড-জ্বর-শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার ভর্তি করিয়ে দেন। তবে রোগীদের চাপ বেশি থাকলেও চিকিৎসক-নার্সদের সেবা দেয়া কোন ব্যাহত হচ্ছেনা। তাদেরকে ডাকার সাথে সাথে এসে সেবা দিচ্ছেন।কর্তব্যরত নার্সরা আগামী দর্পণকে জানান, ওয়ার্ডে জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্নজনিত আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। সব থেকে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাটাই বেশি। ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীদের চাপ বেশি হলেও সেবা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন আগামী দর্পণকে বলেন, হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ। ধারণ ক্ষমতার থেকে প্রায় দ্বিগুন রোগী আছে বর্তমানে। বেশির ভাগ রোগীই ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে কিছুটা ঠান্ডা আবার বাইরে গরম, আর এই আবহাওয়াজনিত কারণেই জ্বর হচ্ছে প্রায় মানুষের। এই সময়টাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন জ্বর-কাশি আক্রান্ত হয়েছে ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।