
★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস- (স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম।)
চট্টগ্রামের রাউজানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নগদ টাকা, আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ মালামালসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়ারঘাটা এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মিয়ারঘাটা এলাকার ‘হারুন স্টোর’ নামের একটি মুদির দোকান থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের জন্ম। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পাশে থাকা ইসমাইল আজিজের মুদির দোকান, মাহবুব আলমের মুদির দোকান, রতনের স্টেশনারি দোকান এবং আবদুল বাসেকের টিভি-ফ্রিজ মেরামতের দোকান আগুনের কবলে পড়ে। এর মধ্যে ইসমাইল আজিজ ও মাহবুব আলমের দোকান দুটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং অপর দুটি দোকানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে তা নেভানোর চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ইসমাইল আজিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরি। মাঝরাতে খবর পেয়ে এসে দেখি আমার স্বপ্নের সব শেষ। অগ্নিকাণ্ডে আমার প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।
এদিকে মুদির দোকানি মাহবুব আলম বলেন,
কিছুদিন আগে আমার দোকানে মালামাল তুলেছিলাম। ১৬ লাখ টাকার ঋণ করেছি। এখন কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করব ভেবেচিন্তে পাচ্ছি না। এ বিষয়ে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষেই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।