
তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ২নং হবিবপুর ইউনিয়নের ছত্রিশ চক মৌজার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা-কালনী নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলনের এক মারাত্মক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদীর তীরবর্তী জনবসতি, ফসলি জমি এবং সামগ্রিক প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকার অস্তিত্ব রক্ষার্থে সাউধেরশ্রী ও ধর্মনগর গ্রামবাসীর পক্ষে সৌরভ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভাঙনঝুঁকিতে ফসলি জমি ও গ্রাম
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা-কালনী নদীর ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে ছত্রিশ চক মৌজার শত শত হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এমতাবস্থায় একটি চক্র সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর পাড় ও নদীগর্ভ থেকে অনবরত মাটি ও বালু উত্তোলন করে চলেছে। ফলশ্রুতিতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তীরবর্তী জনবসতির ভাঙনঝুঁকি কয়েকশত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমেই ধর্মনগর ও সাউধেরশ্রী গ্রাম দুটি সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অভিযুক্তদের তালিকা ও গ্রামবাসীদের ওপর হামলা
অভিযোগে নির্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। অভিযুক্তরা হলেন—
মার্কুলী গ্রামের ছন্দু মিয়ার ছেলে মোতাহার মিয়া
সাউধেরশ্রী গ্রামের নেহার মেম্বার
পার্শ্ববর্তী বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া
কনুজ মিয়ার ছেলে আমির হোসেন এবং আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, গত ১১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে রাতের আঁধারে প্রভাবশালী অভিযুক্তরা ড্রেজার মেশিন চালু করে বালু ও মাটি উত্তোলন শুরু করলে সাউধেরশ্রী ও ধর্মনগর গ্রামবাসী তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বালুখেকো চক্রটি এবং নৌকায় (ভলগেট) থাকা দুর্বৃত্তরা নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিত ইটপাটকেল ও টেঁটা নিক্ষেপ করে হামলা চালায়।অভিযুক্ত নেহার মেম্বারের বক্তব্য
এদিকে ২নং হবিবপুর ইউনিয়নের অভিযুক্ত নেহার মেম্বারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান:
আমি কি এই গ্রামের না? আমি ইউএনও স্যারকে দিনের বেলায়ও জানাইছি, রাতের বেলায়ও জানাইছি। তারা এইভাবে যে রাতের বেলায় মাটি তুলে— আমি ফয়জুল্লাপুরের হান্নানকে লইয়া ড্রেজারকে আটক করছি। ড্রেজারে ৮ থেকে ১০ জন লোক আছিল তারারে আমি চিনি না, এবং তারারে চলতি নদী থেকে মাটি তুলতে নিষেধ করছি। আর আমার ব্যাপারে যে অভিযোগ করেছে, আমি নিজেই বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানাইছি।
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি
গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদনকারী সৌরভ চৌধুরী জানান, এই অসাধু ও উগ্র প্রকৃতির চক্রটির হাত থেকে ফসলি জমি, সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও পরিবেশ রক্ষা করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। আইন অমান্যকারী এই বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট বিনীত প্রার্থনা জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনও-র
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস-এর সাথে সরজমিনে কথা বলিলে তিনি জানান,আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দ্রুতই সরজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।