
ক্রাইম রিপোর্টার:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিবাহ নিবন্ধনে জালিয়াতি ও নথিপত্র কারচুপির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন সংবাদকর্মীরা। অভিযুক্ত কাজী আব্দুল মান্নানের সহযোগী ও তথাকথিত ‘ভায়া কাজী’ মো: নুরনবী ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো সংবাদ চেপে রাখতে সংবাদকর্মীকে মোটা অঙ্কের ঘুষের প্রস্তাব দেন।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে, মূল কাজী আব্দুল মান্নানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নুরনবী ইসলাম এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সরকারি ফির কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় না করলে তারা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, টাকা দিতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে বালাম বইয়ে তথ্য কাটাকাটি করা হয় এবং ভুয়া কাবিননামা ধরিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে অনেক অসহায় পরিবার দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতায় পড়ছে।
তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত নুরনবী ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জালিয়াতির অভিযোগ খণ্ডন করতে পারেননি। বরং তিনি ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংবাদকর্মীকে ফোন করে বিভিন্ন কৌশলে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন। তিনি সরাসরি বলেন, “শোনেন ভাই, আপনার চা-নাস্তা খাওয়ার ব্যবস্থা করছি আমি… টাকা লাগবে না, শুধু চা-নাস্তা খাবেন!” মূলত চা-নাস্তার নামে তিনি সংবাদকর্মীকে ঘুষের মাধ্যমে দমানোর চেষ্টা করেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৩-০৪-২০২৬ তারিখে নুরনবী ইসলামের নানাবিধ জালিয়াতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘দৈনিক বাংলাদেশ চিত্র’ পত্রিকার আনঅফিশিয়াল মেইলে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে অভিযোগকারীর নাম প্রকাশ না করা হলেও, উক্ত অভিযোগে নুরনবীর সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ মানুষের হয়রানির লোমহর্ষক বিবরণ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধুমাত্র লোকদেখানো তদন্ত নয়, বরং প্রশাসনকে নিজস্ব দায়িত্ববোধ থেকে কঠোর হতে হবে। যে ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে পবিত্র বিবাহ ও তালাকের নথিপত্র জালিয়াতি করতে পারে এবং সত্য গোপন করতে সংবাদকর্মীর মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এই সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
আইন অনুযায়ী, নিকাহ রেজিস্ট্রারের নথিপত্রে কারচুপি এবং সরকারি কাজে বাধা বা প্রলোভন দেখানো গুরুতর অপরাধ। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ‘কাজী সিন্ডিকেট’-এর লাইসেন্স বাতিল এবং মূল হোতা নুরনবী ইসলামের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।