
বিশেষ প্রতিনিধি:
যশোরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তিনজন আটকের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আটক মারুফ হোসেন সুমনের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
গত ৬ মে যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ার লাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন, তফসিডাঙ্গা গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন এবং নাজির শংকরপুর এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মারুফ হোসেন সুমনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুমন জেলার কথিত চাকরি সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে শহরতলীর নুরপুর গ্রামের মোদাচ্ছের হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ বাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র।
সূত্র জানায়, মারুফ হোসেন সুমন, মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার আব্দুল জব্বার, মণিরামপুরের বুলি, নড়াইলের লিমনসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন কামরুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগেও কামরুল ইসলাম ভ্যানে করে বেকারির রুটি-পাউরুটি বিক্রি করতেন। পরে বিশেষবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় রয়েছে বলে প্রচার চালিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চক্রের সদস্যরা কমিশনের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের সংগ্রহ করে কামরুলের কাছে নিয়ে যেত। পরে বিভিন্ন বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হতো। টাকা নেওয়ার পর নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হতো।
কেশবপুরের পলাশ, নড়াইলের আমিনুর রহমান, কুষ্টিয়ার রুবেলসহ একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, চাকরি দেওয়ার নামে তাদের ও স্বজনদের কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।
এ ঘটনায় এর আগেও মামলা হয়েছে। গত বছরের ৫ এপ্রিল কেশবপুরের মজিদপুর এলাকার শ্যামল দাস চাকরির নামে ১৩ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করে ১২ এপ্রিল কামরুল ইসলামকে আটক করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কামরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতেন। পরে সেগুলো ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। তার চক্রে মনা ওরফে মনির, খসরু, বসিরসহ আরও কয়েকজন সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কামরুল আগে নিজেকে আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে নুরপুরে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ঝিনাইদহের বারোবাজারে শ্বশুরবাড়িতে আস্তানা গেড়েছেন। সেখানে সাবেক ও চাকরিচ্যুত কিছু সেনা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।
কামরুল ও তার সহযোগীদের বাড়িতে অভিযান চালালে বিপুল পরিমাণ ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকের পাতা উদ্ধার হতে পারে। চাকরির পর কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে মামলা ও হয়রানি করা হতো বলেও অভিযোগ তাদের। দ্রুত পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।