
মোঃ সোহেল রানা বরিশাল জেলা প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পূজামণ্ডপগুলোর শান্তিপূর্ণ ভাবে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র নাথ ঘটক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাবু সুকন্ঠ ঘটক।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও যুগ্ম মহাসচিব এবং বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য বাবু সঞ্জয় কুমার গুপ্ত।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীত সাহা।
প্রধান অতিথি সঞ্জয় কুমার গুপ্ত বক্তব্যে বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলে সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। এ সময় তিনি তার বাবা বাবু সুনীল কুমার গুপ্তের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক থাকবে। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শামীমুল ইসলাম শামীম, সহ-সভাপতি আকাশ মাহমুদ, সদস্য ওমর আলী সানি, ফারুক আকন, আশরাফ উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা ইসকন মন্দিরের সভাপতি বাবু সুকুমার মজুমদার, স্বর্ণকার দিলীপ কর্মকার, অনিমেষ হালদার, বাবু খোকন চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন সংশ্লিষ্টদের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।