আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে ইউএনও-ওসির নারী দিবস পালন, সমালোচনার ঝড়

- আপডেট সময় : ০১:২৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :কিশোরগঞ্জ তাড়াইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ফারুক দাদ খানকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবক্কর সিদ্দিকী। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৮ মার্চ) তাড়াইল উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠানে আওমীলী নেতা ফারুক দাদ খানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশে বসে থাকা কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশে বসা তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমানকে দেখা যায়। এতে ফ্যাসিস্ট দোসরকে দেখা গেলেও বিএনপি ও জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি।
যদিও গত ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদককে পাশে বসিয়ে একই মঞ্চে ইউএনও অনুষ্ঠান করায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের কৌশলে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে ছিল। আন্দোলন চলাকালে মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করেছে। নিষিদ্ধ না হলেও সর্বমহলে তাদের অবাঞ্ছিত করা হচ্ছে। কীভাবে সেই দলের স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে নিয়ে পাশে বসেন ইউএনও থানার ওসি? এতে বোঝা যায়, এখনও সেই পিছুটান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবক্কর সিদ্দিকীর সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ফারুক দাদ খানের থাকার বিষয়টি আমি জানতাম না। অনুষ্ঠানটির আয়োজক আমি ছিলাম না।
“অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী কন্যার উন্নয়ন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান, তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ফারুক দাদ খান সহ প্রমূখ। এতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক নাসরিন আক্তার সঞ্চালনা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯০৮ সালে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম নারী সম্মেলন করা হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।