যশোরে শাহীন চাকলাদারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলার শহীদ লে. মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমান মঙ্গলবার (৮ জুলাই) যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঞ্জুমান আরা বেগমের আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কলেজ ও স্কুলে বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিচারক অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী তাহমিদ আকাশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অপর অভিযুক্তরা হলেন, শাহীন চাকলাদারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আলমগীর সিদ্দিকী টিটো, আলমগীর সিদ্দিকী টিটোর স্ত্রী শামীমা পারভীন রুমা, রবিউল ইসলাম (মৃত সোবহান গাজীর ছেলে, মাগুরখালী গ্রাম)
মামলার বাদী মশিয়ার রহমান অভিযোগ করেছেন, শাহীন চাকলাদার যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালীন অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, এবং এমপিওভুক্তকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা টাকার বিনিময়ে করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বাদী জানান, তিনি সেসময় শহীদ লে. মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ এবং রেজাকাটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। এই সুবাদে তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন সুবিধা পেতে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আসামিরা তাকে জানান, কলেজের স্নাতক ও বিএম শাখা এমপিওভুক্তকরণ এবং কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষকদের এমপিও ছাড় করানোর জন্য ৬৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা লাগবে। এছাড়া, স্কুলের মাধ্যমিক শাখার এমপিও আদেশ করিয়ে দেওয়ার জন্য আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বাদী এই প্রস্তাবে রাজি হন এবং তাদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। ২০২০ সালের ২ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্টের মধ্যে কয়েক দফায় আলমগীর সিদ্দিকী টিটোর বাড়িতে বসে শাহীন চাকলাদারসহ আসামিদের হাতে এই টাকা দেওয়া হয়। আসামিরা মেশিন দিয়ে টাকা গুনে গ্রহণ করেন এবং পরে শাহীন চাকলাদারও তা গ্রহণ করেন।
আসামিরা ২০২১ ও ২০২২ সালের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ায় বাদী খোঁজখবর নিলে তারা নানা রকম টালবাহানা করেন। একপর্যায়ে তারা জানিয়ে দেন যে, কাজগুলো আর হবে না। এরপর বাদী মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, অভিযুক্ত চারজনই সব টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। তবে মামলা ও হামলার ভয়ে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
সম্প্রতি ২০ জুন, বাদী টিটো ও তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে টাকা ফেরত চাইলে তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসছে বলে বিভিন্ন হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে বাদী আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন।